আঃ মান্নান (স্টাফ রিপোর্টার) : খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম (বিপিএম-সেবা) বলেছেন, মাদক সমাজের জন্য এক ভয়াবহ ক্যান্সার। এই অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ যদি সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করে, তাহলে রূপসাকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। পুলিশের জনগণের সঙ্গে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। থানা হবে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার জায়গা। কোনো ব্যক্তি থানায় এসে হয়রানির শিকার হলে, কেউ ঘুষ দাবি করলে কিংবা মামলা বাণিজ্যের অপচেষ্টা চালালে তা সরাসরি তাকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন অনলাইন জুয়া বর্তমান সমাজে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে। প্রানঘাতী ট্রলির কোনো বৈধতা নেই এবং এসব ট্রলি বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব অবৈধ ট্রলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই সড়কে অবৈধ ট্রলি চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রূপসা থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরুর হাট, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, জাল টাকা, ছিনতাই কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। তিনি বলেন জনগণের সহযোগিতা থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রূপসা গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আজ ১৮-ই মে (সোমবার) সকালে রূপসা থানা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
উক্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন খুলনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর এবং সঞ্চালনা করেন রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান।
বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান,রূপসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওঃ হাবিবুল্লাহ ইমন, রূপসা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, হুমায়ূন কবীর, ইসমাইল হোসেন, টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন,বিএনপি নেতা শেখ আবু সাঈদ, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিমুদ্দিন, বিএনপি নেতা বাদশা জমাদ্দার, সৈয়দ নিয়ামত আলী, কামরুল ইসলাম কচি, শামীম হাসান, মুন্না সরদার, ফিরোজ মাহমুদ, স,ম হাসিবুর রহমান, মোশাররফ শিকদার, কবির শেখ, তরিকুল ইসলাম রিপন, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন, জামায়াতে ইসলামী নেতা হাফেজ মাওঃ জাহাঙ্গীর ফকির, হাফেজ মাওঃ গোলাম রসূল, সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাইল বাবু, রনি লস্কর, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা নাঈম আহম্মেদ, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হালদার, জিএম হিরোক, শামীম মোল্যা, আবুল কাশেম, গোলাম রসূল, তামিম হাসান লিয়ন, ইমরান শেখ, জাহিদ শেখ,শামীম হাওলাদার, মিরাজুল ইসলাম মিরান প্রমূখ।