মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর
ইউনিয়নের বারেশ্বর পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি মাছের ফিসারি ও মুরগির খামারের খাদ্যগুদামে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩১ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কে বা কারা মাছের ফিসারি ও মুরগির খামারের খাদ্য সংরক্ষণাগারে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে গুদামে মজুদ থাকা প্রায় ৪ লাখ টাকার খাদ্য, পানির ফিল্টার, চার্জার মেশিন, ব্যাটারি চার্জার, বড় স্ট্যান্ড ফ্যান, আসবাবপত্রসহ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে যায়।
আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বারেশ্বর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াকে মোবাইল ফোনে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের তাপে আশপাশের আমগাছ, কাঁঠালগাছসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুকুরের বেশ কিছু মাছও মারা যায়।
ভুক্তভোগী মানিক মিয়া দাবি করেন, তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “শত্রুপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে আমার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে গ্রামছাড়া করারও চেষ্টা করছে।”
মানিক মিয়া আরও জানান, একসময় তিনি ভুল পথে চললেও গত চার বছর ধরে কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। বর্তমানে তিনি কৃষিকাজ, মাছ চাষ ও মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার এক ছেলে প্রবাসে রয়েছেন। তিনি মনে করেন, তার আর্থিক স্বচ্ছলতা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ ও মেহেদী হাসান বলেন, “মানিক মিয়া কয়েক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে মাছ চাষ, মুরগি পালন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে পরিবারের অবস্থার উন্নতি করেছেন। তার এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা ক্ষতি করার চেষ্টা করছে বলে আমরা মনে করি।”
তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ঘটনাটি তাদের জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী অভিযোগ বা মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।