তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ জাকির হোসেন-টুটুল।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ লোলিত মোহন ডিগ্রি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে জমি জবরদখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
তানোর- গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন আলোকচ্ছত্র গ্রামে এই জমি জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, তানোর- গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন আলোকচ্ছত্র মৌজার, জেল-নম্বর ১২৪, আরএস খতিয়ান নম্বর ৩৩, দাগ নম্বর ৩২৭, শ্রেণী বাড়ী, পরিমাণ ০.৩২ একরের কাত ০.৭৭৫ একর জমিতে ইটের প্রাচীর দিয়ে বাদী ভোগ দখল করে আসছিলেন।
ওয়ারিশ সুত্রে মৃত জব্বার খাঁনের পুত্র আজিজ খাঁন ও নজরুল ইসলাম খাঁন হিস্যা মোতাবেক সমান ৩ শতক করে জমি পাবেন। কিন্ত্ত নজরুল ইসলাম খাঁন বহিরাগত ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে জোরপুর্বক পুরো জমির দখল নিতে ভাঙচুর, হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় আলোকচ্ছত্র গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র রবিউল ইসলাম (৪৩) বাদি হয়ে নজরুল ইসলাম খাঁনসহ (৮) আট জনকে আসামি করে রাজশাহীর বিজ্ঞ-জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (গোদাগাড়ী থানা) আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নম্বর-১০৪৯ সি/২০২৫ (গোদাগাড়ী) ধারাঃ ১৪৩/ ৩২৩/ ৪২৭/৪৪৮/৫০৬ (।।)/৩৪ দঃ বিঃ।
এছাড়াও পুলিশ মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন-সেখানে বলা হয়েছে, মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে বাদীর আনীত অভিযোগটি পর্যালোচনা করা হয়। সঙ্গীয় ফোর্সসহ সরেজমিনে আলোচ্য মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাদী ও সাক্ষীদের মামলার ঘটনা সংক্রান্তে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬১ ধারা মোতাবেক সাক্ষীদের জবানবন্দি পৃথক-পৃথক কাগজে লিপিবদ্ধ করা হয়। বাদীর সঙ্গে আলোচনা করে আসামীদের বসতবাড়ীর ঠিকানায় হাজির হইয়া এলাকার আশে পাশের গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নাম-ঠিকানা, বয়স ও পিসিপিআর যাচাই করা হয়। এছাড়াও মামলাটি তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে জানা যায় বাদী ও বিবাদীগণ পরস্পর নিকট আত্মীয়। বাদীর নালিশী সম্পত্তি গোদাগাড়ী থানাধীন আলোকছত্র মৌজা, জে এল নং-১২৪, আর.এস খং নং-৩৩, আর,এস দাগ নং-৩২৭, রকম-বাড়ী, পরিমাণ-০.৩২ একরের কাত ০.৭৭৫ একর জমিতে ইটের প্রাচীর দিয়ে বাদী ভোগ দখল করে আসছে। উক্ত জমি নিয়ে বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে পূর্বে থেকেই বিরোধ চলে আসছে।
গত ইং-০২/১২/২০২৫ তারিখ বিবাদীরা বাদীকে মারপিট করিয়া টিনের বেড়া ভাংচুরসহ ভয়-ভীতি ও হুমকি দিলে বাদী বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। যাহার মামলা নং-১০৪৯সি/২০২৫ (গোদাগাড়ী)। যাহা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে উক্ত মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করিয়া ঘটনার দিন ইং-২২/১২/২০২৫ তারিখ দুপুরে বিবাদী নজরুল ইসলাম খান (৫৮), আঃ মজিদ খান (৬৩), উভয় পিতা-মৃত আঃ জাব্বার খান। মুহায়মিনুল তারিক (২৯), পিতা-আঃ মজিদ খান, মোসাঃ মাবিয়া (৬৩), স্বামী কাইমুদ্দীন, এদিব খান (২২), পিতা-মৃত নূরুল ইসলাম,মোসাঃ জাহানারা (৪৮), স্বামী- মৃত নূরুল ইসলাম, সর্ব সাং-আলোকছত্র, থানা-গোদাগাড়ী, জেলা-রাজশাহী, শামিউল আজিজ (৩৫), পিতা-আমিনুর রহমান, মহল্লা-গৌরহাঙ্গা, নিউ মার্কেট (ইলিশ মাছের আড়ত সংলগ্ন) থানা-বোয়ালিয়া, রাজশাহী, ইমতিয়াজ আহম্মেদ প্রাপ্ত (৩০), পিতা-মোজাফর আলী, সাং-বিশালপুর, থানা-নাচোল, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ তারা সকলে একই উদ্দেশ্যে হাতে লোহার রড, শাবল, বাঁশের লাঠি সোঠাসহ বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থল গোদাগাড়ী থানাধীন আলোকছত্র মৌজার, জে এল নং-১২৪, আরএসখং নং-৩৩, আরএসদাগ, নং-৩২৭, রকম-বাড়ী, পরিমাণ-০.৩২ একরের কাত ০.৭৭৫ একর জমিতে থাকা ইটের প্রাচীর ভেঙ্গে অনুমান ১০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। অতঃপর বিবাদীরা বাদীর বাউন্ডারীতে অনধিকার প্রবেশ করে বাদীর পরিবারের লোকজনকে উদ্দেশ্যে করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বাদীর পিতা ঘর থেকে বের হয়ে বিবাদীদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে ১নং বিবাদী নজরুল ইসলাম খান (৫৮), ২নং বিবাদী আঃ মজিদ খান (৬৩), ও ৪নং বিবাদী মোসাঃ মাবিয়া (৬৩) বাদীর পিতাকে এলোপাথারীভাবে কিল ঘুষি ও চড় থাপ্পর মারিয়া শরীরের বিভিন্নস্থানে ফোলা জখম করে। বাদীর পিতার ডাক চিৎকারে বাদী ঘটনাস্থলে আসিলে বিবাদীরা বাদীকে মারতে তেড়ে গেলে বাদী প্রাণ ভয়ে বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করে। তখন বাদীর ঘর বাড়ী নির্মাণের জন্য বসত বাড়ী সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় রক্ষিত ৫০ (পঞ্চাশ) বস্তা সিমেন্ট, যাহার মূল্য ২৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং রড ১০০ কেজি , যাহার মূল্য ১০ হাজার ৫৮৪ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/ ৩২৩/৩৭৯/ ৪২৭/৫০৬/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিক ভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আকিল আমিন শুভ বাদি হয়ে তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খাঁনেে বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চলের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে,
নজরুল ইসলাম খান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজ। তিনি আমাদের মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা, ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্তৃক জিনিসপত্র লুটপাট এবং আমাদের বাড়িঘর সন্ত্রাসী কায়দায় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকেন। উক্ত ঘটনার বিষয়ে আইনানুগভাবে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য ও প্রমানের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রতীয়মান হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিতর্কিতভাবে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ হওয়া ও কর্মচারী নিয়োগের নামে বাণিজ্যর অভিযোগ রয়েছে।
এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি বিভাগীয় প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আপনার কাছে সদয় প্রার্থনা করছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খাঁন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলিল মুলে ওই জায়গার মালিক তিনি। তিনি বলেন, দলিল যাচাই করা হলেই তার প্রমাণ মিলবে।তিনি বলেন, তার জমি প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক