নার্গিস রুবি: ঢাকার কাফরুল ও মিরপুর এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোনাল অফিস ৩/২ এর আওতাধীন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই অভিযানে অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ, ইমারত পরিদর্শক আশিক আহমেদ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভিন বীথি এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভিন বীথি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই অভিযান যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং কোনো অপরাধী অপরাধ করে পার পাবে না।
উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে রাজউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযান পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা চেয়ে মঞ্জুরী নোটিশ, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং চূড়ান্ত জারি করা হয়। এরপরও ভবন মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া না গেলে, নির্দেশনা অমান্য করা হলে এবং ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) করে সেফটিনেট বিহীন ভবন নির্মাণ করলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে, ভবন মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজউক আগে থেকে কোনো নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে অবহিত করেনি। অভিযান চলাকালীন ভবন মালিকরা বলেন, তাদের একমাসের মধ্যে ব্যত্যয়কৃত অংশ ভেঙে অপসারণ করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকায় বাড়ি নং ৬৯, আনন্দ রোডে অবস্থিত একটি ভবনে একমাস সময় দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়নি। অন্যদিকে আনন্দ রোডের ১৯ নম্বর ভবনের মালিক জুয়েল রানার ভবনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মিরপুর সেকশন ২, ব্লক জি/১, রোড নং ৪, প্লট ২ ও ৪ নম্বরে স্বপ্না রায়ের মালিকানাধীন ভবনেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাজউকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট ১৫ হাজার ৯৯৩টি ভবন পরিদর্শন করা হলেও মাত্র ২০৪টি ভবনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ফলে বিচ্যুতির তুলনায় উচ্ছেদের ঘটনা নগণ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)র একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাজউকের নকশা বহির্ভূত সব ভবন উচ্ছেদের কথা জানিয়েছেন। তবে ভবন মালিকদের অভিযোগ, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি আগাম নোটিশ প্রদান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।