নিজস্ব প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পৈতৃক জমি দখল ও মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দৈনিক গণতদন্ত সংবাদকর্মী মোঃ তরিকুল ইসলাম (৩০) এবং তাঁর পিতা মোঃ ফরিদুল ইসলামের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এক বর্বরোচিত ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা (৪৪)-এর জামিন নামঞ্জুর করে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৯ জুন ২০২৬ ইং তারিখে আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ০৮/০৪/২০২৬ ইং তারিখ (২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় মির্জাগঞ্জ থানার অধীনস্থ শ্রীনগর চৌরাস্তা মোড়ে এই লোমরহর্ষক হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মির্জাগঞ্জ থানাধীন শ্রীনগর মৌজার এস.এ খতিয়ান নং- ২৯১, হাল দাগ নং- ১৫৬৯ এর অন্তর্গত জমিটি বাদী তরিকুল ইসলামের নানী জাহানারা বেগমের স্বত্ব ও ভোগ দখলীয় সম্পত্তি। ঘটনার দিন উক্ত ভূমিতে বে-আইনিভাবে অনুপ্রবেশ করে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দ্বারা মাটি কাটা শুরু করে স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা (৪৪), ফারুক মোল্লা (৩৮) ও আব্দুল খায়ের (২৫) সহ একদল অজ্ঞাতনামা লাঠিয়াল বাহিনী।
সংবাদ পেয়ে সংবাদকর্মী তরিকুল ইসলাম ও তাঁর পিতা মোঃ ফরিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজেদের জমিতে মাটি কাটতে বাধা প্রদান করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শ্রীনগর চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছালে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তরিকুল ইসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে।
একপর্যায়ে ১ নং আসামি আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ‘দাও’ দিয়ে তরিকুল ইসলামের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারে। তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে কোপটি তাঁর বাম হাতের কনুইয়ের নিচের অংশে লেগে মারাত্মক রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। এরপর পুনরায় কুদ্দুস মোল্লা মাথায় কোপ মারতে গেলে তরিকুল ঠেকাতে গেলে কোপটি তাঁর বাম হাতের কনুই ও বাহুর মাঝখানে লেগে গুরুতর জখম প্রাপ্ত হন।
ছেলের প্রাণ বাঁচাতে পিতা ফরিদুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ২ নং আসামি ফারুক মোল্লা ও অন্যান্যরা তাকেও পিটিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়। এই সুযোগে ২ নং আসামি ফারুক মোল্লা ফরিদুল ইসলামের পাঞ্জাবির পকেট থেকে নগদ ২৩,০০০/- (তেইশ হাজার) টাকা এবং ৩ নং আসামি আব্দুল খায়ের তরিকুল ইসলামের হাত থেকে ৪,০০০/- টাকা মূল্যের একটি নোকিয়া বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ১ নং আসামি কুদ্দুস মোল্লা তরিকুলের পরিহিত ফুল প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে মানিব্যাগ সহ নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং শার্টের পকেট থেকে ২৫,০০০/- টাকা মূল্যের একটি নোকিয়া অ্যান্ড্রয়েড সেট জোরপূর্বক ছিনতাই করে নেয়।
যাওয়ার সময় আসামিরা তরিকুল ইসলামের মোটর বাইকটি পিটিয়ে ও কুপিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করে এবং মামলা করলে বাবা-ছেলেকে 'সাফ খুন' করার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় তরিকুল ইসলামকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়।
প্রধান আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের এই আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সমাজ। মামলার বাদী তরিকুল ইসলাম বলেন, "আসামিরা এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী ও চোর প্রকৃতির লোক। এরা দেশের প্রচলিত আইন কিংবা সালিশ-ব্যবস্থার তোয়াক্কা করে না। আমাদের পৈতৃক জমি দখল করতে না পেরে তারা আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আমরা আইনের শাসনের প্রতি আরও বেশি আস্থাশীল হলাম। আমরা আশা করি, বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"