সোহেল রানা, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, যেখানে একটি পৌর ভূমি অফিসে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা এই দুইটি পদে কর্মকর্তা থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে পুরো অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন কেবল ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণ। ফলে খারিজ, খাজনা পরিশোধ, জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাইসহ বিভিন্ন সেবায় বিলম্ব হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মৌজা থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অফিসে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একটি পৌর ভূমি অফিসের বিপুল কর্মচাপ সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আব্দুল হাকিম মৌজার এক সেবাগ্রহীতা জানান, তিনি গত তিন সপ্তাহ ধরে খারিজের প্রস্তাব নেওয়ার জন্য অফিসে আসছেন। কয়েকবার এসেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাননি। সর্বশেষ ৫ জুলাই, রোববার অফিসে এসে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাত দিনের ছুটিতে রয়েছেন। এতে তাঁর আবেদন নিষ্পত্তি আরও বিলম্বিত হয়েছে।
নারিকেলবাড়ী মৌজার বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, খাজনা দিতে এসে দেখি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। তাই কাজ না করেই ফিরে যেতে হয়েছে।”
একই মৌজার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন,খারিজের আবেদন করেছি। প্রস্তাব নেওয়ার জন্য কয়েকবার অফিসে এসেছি। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় এখনো কাজ শেষ করতে পারিনি।
উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক দলিল লেখক বলেন,দলিল নিবন্ধনের আগে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও খাজনা পরিশোধ বাধ্যতামূলক। কিন্তু পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় অনেকের দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন,পৌর ভূমি অফিসে যদি দুইজন কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে একজন অনুপস্থিত থাকলেও অন্যজনের মাধ্যমে অন্তত প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যেত। কাউকে খালি হাতে ফিরে যেতে হতো না।
সেবাপ্রত্যাশী আমিনুল ইসলাম ও খন্দকার মোসারফ হোসেন বলেন,এর আগে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা প্রদান করতেন। কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিতেন। বর্তমানে সেই সেবার মান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, গুনাইগাছ ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে তাঁকে পুনরায় উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হলে সেবার মান আগের মতো ফিরে আসবে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শুধু জনসাধারণের দুর্ভোগই বাড়ছে না, সরকারের রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ স্বল্প সময় নিয়ে অফিসে এসেও প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উলিপুর পৌর ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণ বলেন,আমি বর্তমানে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে রয়েছি। আগামী ৯ তারিখ থেকে অফিসে যোগদান করব। শুধু একজন অফিস সহায়ক দিয়ে সেবা দেওয়া অসম্ভব। আমাদের অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালভাবে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান বলেন,জনবল নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা একাধিকবার রাজস্ব শাখার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করেছি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, উলিপুর পৌর ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, শূন্য পদ পূরণ এবং সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে জনভোগান্তি কমবে, ভূমি সেবার মান উন্নত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিক হবে।