মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. হাছিনা ইসলামের দ্রুত অপসারণ এবং তাঁর সহযোগী বলে অভিযোগ করা একটি স্থানীয় চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে
শতাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মাহবুব আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মো. লুৎফুর রহমান, আব্দুর রউফ (পুলিশ), ইদ্রিস মেম্বার, মো. জয়নাল আবেদীন, আব্দুল আজিজ, সোহেল রানা ও আব্দুল মান্নান মনুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক খাদিজা আক্তার, নাজমা বেগম, মফিজ উদ্দিন, রাসেল আহমেদ, মেহেদী হাসান ও আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন,
সহকারী শিক্ষক হাছিনা ইসলাম গত প্রায় ১৮ মাস ধরে নিয়মিত পাঠদান না করেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। তাঁদের দাবি, গত পাঁচ মাস ধরে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে বিভিন্ন দপ্তর এবং উচ্চ আদালতে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, "আমরা নিয়মিত ক্লাস করতে বিদ্যালয়ে আসি। কিন্তু হাছিনা ম্যাডাম দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নেন না। এতে আমাদের লেখাপড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। আমরা একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাছ থেকে নিয়মিত পাঠদান চাই।"
সহকর্মী এক শিক্ষক বলেন, "হাছিনা ইসলামের অনুপস্থিতির কারণে তাঁর নির্ধারিত ক্লাসগুলো অন্য শিক্ষকদের নিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত কর্মচাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।"
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক যদি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থেকে দীর্ঘদিন
মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল করিম বলেন, "বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। সহকারী শিক্ষক হাছিনা ইসলাম আমাকে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহানকে জড়িয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না—এ বিষয়টি সত্য। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।"
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, দাবি বাস্তবায়িত না হলে শিক্ষার স্বার্থে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোসা. হাছিনা ইসলামের বক্তব্য সংগ্রহের জন্য বার বার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।