স্টাফ রিপোর্টার: সোহেল রানা
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ চলাকালে আবারও ধোঁয়া ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কার্গো ভিলেজ এলাকায় পোড়া গন্ধ ও হালকা ধোঁয়া দেখা গেলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস এবং ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠায়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, অনুসন্ধানে দেখা যায়, ধোঁয়ার উৎস ছিল গত বছরের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কুরিয়ার সেকশনের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে।
তিনি বলেন, শনিবার থেকেই ওই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। ২৬ জন শ্রমিক লোহার র্যাক ও খাঁচা কাটার জন্য অক্সি-অ্যাসিটিলিন শিখা ব্যবহার করছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত তাপের সৃষ্টি হওয়ায় পুড়ে থাকা কাগজ ও অন্যান্য দাহ্য বর্জ্যের ভেতরে ধীরে ধীরে তাপ জমে রাতে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে।
নির্বাহী পরিচালক জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শ্রমিকরা কাজ শেষ করে চলে যান। এরপর রাত ৯টার দিকে পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধোঁয়ার উৎস শনাক্ত করে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভিজিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শ্রমিকদের ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধ্বংসস্তূপ অপসারণের পর সেখানে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই ভারী লোহার র্যাক ও খাঁচাগুলো কেটে সরানোর বিকল্প ছিল না।
ছুটির দিনে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাগীব সামাদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে। সন্দেহ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ শুরুর দিনেই অক্সি-অ্যাসিটিলিনের অতিরিক্ত তাপ থেকে ধোঁয়ার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কার্গো ভিলেজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।