এম এইচ মুন্না
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষাসনে আসীন হতে যাওয়া সম্ভাব্য কর্মকর্তাদের সমীকরণে বর্তমান অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-২) মো. সারোয়ার আলমের নাম এখন প্রশাসনিক মহলে একচ্ছত্র ও দেদীপ্যমান। বিদায়ী সচিবের নিয়মতান্ত্রিক প্রস্থানে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণে কোনো বহিরাগত বা নবিশ আমলার তাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেয়ে এই জটিল চক্রব্যূহের অভ্যন্তরেই পোড়খাওয়া ও পরীক্ষিত এই কর্মকর্তার অভিষেক সময়ের অমোঘ দাবি। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ এবং গতিশীল এই কর্মকর্তা যদি চূড়ান্তভাবে গণপূর্ত সচিবের গুরুদায়িত্ব লাভ করেন, তবে স্থবির হয়ে পড়া এই কাঠামোগত খাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক অভূতপূর্ব পেশাদারিত্ব ও বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটবে।
তিনি এ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার কারিগর হিসেবে ইতোমধ্যেই মেধা ও দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন, যার অন্যতম নজির গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সম্পূর্ণ লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক পদ্ধতিতে একযোগে বদলি করা। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে তদবির ও দুর্নীতির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি চূর্ণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে ক্ষয়িষ্ণু চালচিত্র সংস্কারের একক রসায়ন কেবল তারই জানা। এর পাশাপাশি, নিজ দক্ষতার সুবাদে তিনি সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের রুটিন দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে সামলেছেন।
গণপূর্তের মতো একটি জটিল সংস্থাকে গতিশীল করতে হলে এমন একজন কর্মকর্তার কোনো বিকল্প নেই, যিনি ভেতরের সমস্ত ফাইল ও মেগা প্রকল্পগুলোর জটিল জট প্রথম দিন থেকেই কোনো সময় নষ্ট না করে অবলীলায় ব্যবচ্ছেদ করতে পারবেন। মাঠপর্যায়ের কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় আবাসন ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির যে দুষ্টচক্র, তা তার তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য চিরতরে বিলুপ্ত হবে।
গণপূর্তের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ফাইল নিষ্কাশনের গতি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করে পুরো সংস্থাকে একটি আধুনিক ও নিশ্ছিদ্র চেইনে বেঁধে ফেলার একক যোগ্যতা রাখা মো. সারোয়ার আলমের রাজকীয় পদায়ন এখন শুধুই সময়ের যৌক্তিক দাবি, যার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট সব মহল।