পাবনা গণপূর্ত বিভাগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্থাপিত একগুচ্ছ নেতিবাচক অভিযোগের মোড়কে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে মূল প্রশাসনিক সত্যতা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রিম বিল প্রদান, দরপত্র মূল্যায়নে স্বজনপ্রীতি কিংবা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় তথাকথিত স্বচ্ছতার ঘাটতির যেসব চটকদার দাবি তোলা হচ্ছে, তা মূলত সরকারি বিধিমালা (PPR) এবং চিরাচরিত হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার (Audit and Accounts Rules) ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যারই ফল।
প্রশাসনিক ও আইনি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে যেকোনো দাপ্তরিক বা বকেয়া বেতন-ভাতা সংক্রান্ত আবেদনে নির্বাহী প্রকৌশলী কেবল প্রশাসনিক সুপারিশ প্রদান করেন। চূড়ান্ত অর্থ অনুমোদন ও প্রদান প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের (District Accounts and Finance Office) এখতিয়ারভুক্ত। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে কোনো অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়া হলে, তা সরকারি হিসাব ব্যবস্থার একটি রুটিন পুনঃসংযোজন (Routine Financial Adjustment) মাত্র। এটিকে কোনোভাবেই নির্বাহী প্রকৌশলীর আর্থিক অনিয়ম বা একক সিদ্ধান্ত হিসেবে অপপ্রচারের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়েও ছড়ানো হচ্ছে ভিত্তিহীন তথ্য। সরকারি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR) অনুযায়ী ই-জিপি (e-GP) সিস্টেমে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (OTM) মাধ্যমে যেকোনো ঠিকাদার সরাসরি অংশ নিতে পারেন। এখানে একজন নির্বাহী প্রকৌশলী একক সিদ্ধান্তে কাউকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বা সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মূলত OTM পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য প্রমাণিত করে।
এছাড়া, পাবনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্পের ‘রিমেইনিং ওয়ার্ক’-এর বিল পরিশোধ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে, তা-ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বর্তমান ডিজিটাল অ্যাকাউন্টস সিস্টেমে নিয়মবহির্ভূত বা অগ্রিম অর্থ ছাড়ের কোনো সুযোগ নেই; চূড়ান্ত হিসাব পরিদর্শনের (Final Audit) নিয়ম মেনে নিয়ম অনুযায়ীই বিল নিষ্পত্তি করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বদলিকে ঘিরে নির্বাহী প্রকৌশলীর ওপর যে দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। একজন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর অধস্তন পদে থেকে ঊর্ধ্বতন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে বদলি করার কোনো প্রশাসনিক এখতিয়ার বা ক্ষমতা নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় ঠিকাদারদের নানামুখী অসন্তোষ ও মানববন্ধনের প্রপ্রেক্ষিতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উক্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে বদলি করেছেন, যার সাথে নির্বাহী প্রকৌশলীর দাপ্তরিক সম্পর্কের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
একইভাবে, পূর্ববর্তী কর্মস্থলের প্রসঙ্গ টেনে আনা কিংবা দেশত্যাগের মতো কাল্পনিক গুঞ্জন ছড়িয়ে মূলত একজন প্রকৌশলীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাঁয়তারা চলছে।
এ বিষয়ে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন: উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আইন ও প্রজ্ঞাপনের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে কাজের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, সেখানে নির্দিষ্ট কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। দপ্তর পরিচালনায় তিল পরিমাণ অনিয়ম করা হয়নি। প্রতিটি সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে আমার কাছে দাপ্তরিক নথি ও নিয়মতান্ত্রিক প্রমাণ বিদ্যমান।”