ব্রাহ্মণবাড়িয়া:প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের উত্তর পাশের মেঘনা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভৈরব উপজেলার একটি বালুমহালের ইজারার আড়ালে আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে শতাধিক কানি কৃষিজমি, মিল-ফ্যাক্টরি, ইটভাটা, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, আশুগঞ্জের চরসোনারামপুর, বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুরসহ মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও প্রশাসনিক অভিযান হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষ কৃষিজমি ও বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে রয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জুবায়ের হায়দার বুলু, তারেক আহমেদ মিলন, নাসীরুদ্দীন রুমি, আশরাফুজ্জামান মাসুম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুজ্জামান শাকিল, কৃষক মুজিবর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, হাফেজ আব্দুল্লাহ, হাজি বাহাউদ্দীন, ইমরান, খায়রুল সরকার, রানা আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী।
ইউএনও মো: জামাল হোসেন বলেন, ‘এর আগেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন থেকে আশুগঞ্জ ও ভৈরব উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। সরকারের কাজ জনগণের পাশে থাকা। তবে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনগণকেও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।’
মানববন্ধন থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন থেকে জনপদ ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়।
পরে দুপুরে ইউএনওর নেতৃত্বে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইউএনও জানান, অভিযানের খবর পেয়ে ড্রেজারগুলো ভৈরব প্রান্তে চলে যায়। পরে একটি বালুভর্তি বাল্কহেড আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।