রিপোর্টার: সোহেল রানা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) ধারাবাহিক তিনটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম ও বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে।
সিআইআইডির অভিযানে সব মিলিয়ে ৩৪৯ কার্টুন বিদেশি সিগারেট, ৩৮০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। আটক পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য ও বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ টাকা। ফলে শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬ হাজার ৮৬০ টাকা।
তিন যাত্রীর কাছে ১৭০ কার্টুন সিগারেট
১৭ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর সার্কেলের এ-শিফট দুবাই থেকে আগত EK582 ও EK586 ফ্লাইটে বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় তিন যাত্রীর কাছ থেকে ১৭০ কার্টুন সিগারেট, ৯ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম ও ১ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়।
আটক সিগারেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৬২১ শতাংশ হারে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৪২ লাখ ২২ হাজার ৮০০ টাকা। বিদেশি মদের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ২০ হাজার টাকা এবং ৬১০.৩০ শতাংশ হারে শুল্ক-কর ১ লাখ ২২ হাজার ৬০ টাকা। নিষিদ্ধ ক্রিমের বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে এ অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ মূল্য ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৮৬০ টাকা।
BG148 ফ্লাইটে ১৭৯ কার্টুন সিগারেট
এর আগে ১১ আগস্ট দুবাই থেকে আগত BG148 ফ্লাইটে অভিযান চালায় সিআইআইডির এ-শিফট। বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ১৭৯ কার্টুন সিগারেট ও ৫২ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্রিম আটক করা হয়।
সিগারেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ৬২১ শতাংশ হারে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬০ টাকা। নিষিদ্ধ ক্রিমের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এ অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ৬২ লাখ ২ হাজার ৩৬০ টাকা।
ফরেন পোস্ট অফিসে ৩১৯ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম
অন্যদিকে, ১৭ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩১৯ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম আটক করা হয়। এ চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার
সিআইআইডির ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আটকের ঘটনায় বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরাচালান প্রতিরোধ ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় গোপন তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি এবং যাত্রী ও কার্গো/পার্সেল পর্যায়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।