রিপোর্টার: সোহেল রানা
বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জটিলতা নিরসন এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য দ্রুত খালাসে স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত শনাক্ত ও খুঁজে বের করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI মডেল তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু অন্যদের অনুসরণ করতে চায় না; বরং নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে চায়। দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কার্গো খালাসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় একটি অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য ৭টি স্থান এবং একটি স্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণের জন্য ৪টি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ওষুধসহ সংবেদনশীল পণ্যের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কার্গো পণ্য আমদানির নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা এবং পণ্য শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা পণ্য দ্রুত শনাক্ত ও নির্দিষ্ট স্থানে খুঁজে বের করতে AI প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থায়ী ও অস্থায়ী ওয়্যারহাউজ নির্মাণ, কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং AI-ভিত্তিক কার্গো ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে বিমানবন্দরে পণ্য জট কমবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশের বাণিজ্য ও এভিয়েশন খাতে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।