উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার পিয়ারীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অনিয়ম বন্ধে গঠিতব্য এডহক কমিটির সভাপতি পদে স্থানীয় যুবসমাজের একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও স্থানীয় যুবসমাজ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর থেতরাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোড়াই পিয়ার গ্রামে অবস্থিত গোড়াই পিয়ার পিয়ারীয়া দাখিল মাদ্রাসার EIIN নম্বর ১২২৬৬০। অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর সবুরের দায়িত্বকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে।
তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়মিত যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হন না। আবার কিছু শিক্ষক যথাযথভাবে পাঠদান না করায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ দাখিল পরীক্ষায় নিয়মিত ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি কার্যকর এডহক কমিটি গঠন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় যুবসমাজের একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক সাধারণ সভায় উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা এডহক কমিটির সভাপতি পদে যুবসমাজের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির পক্ষে একবাক্যে সমর্থন জানান বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধির পরিবর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে প্রস্তাব পাঠানোর চেষ্টা করছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে সুপারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে মাদ্রাসার দাতা সদস্য মো. নুরুন্নবী সরকার বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
নুরুন্নবী সরকারের অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালে নদীভাঙনে বসতবাড়ি হারানো কয়েকজন ব্যক্তিকে মাদ্রাসার পাশের ফাঁকা জায়গায় বসবাসের সুযোগ দেওয়ার নামে তাঁদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়া এবং প্রতিমাসে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আজিজার রহমানের কাছ থেকে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা নিয়ে মাসে ৫০০ টাকা এবং কয়ছার আলীর কাছ থেকে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা নিয়ে মাসে ১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আশরাফুলের সঙ্গে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে জায়গা দেওয়ার আলোচনা হয় এবং তিনি নগদ ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দাতা সদস্য নুরুন্নবী সরকারের অভিযোগ, এসব অর্থ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর সবুর সহকারী সুপার পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অর্থ মাদ্রাসার কোনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে নিয়মিত কোনো সভা, বৈঠক কিংবা রেজুলেশন হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে তিনটি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন। নিয়োগের বিষয়ে কোনো বৈধ রেজুলেশন বা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নেই বলেও তাঁদের দাবি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার সন্তানদের শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম,আব্দুর রশিদ সরকার, আব্দুল মান্নান,মজিবর রহমান, মিজানুর
বলেন,মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর এডহক কমিটি গঠন জরুরি। এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় যুবসমাজের একজন যোগ্য প্রতিনিধিকে সভাপতি করা হলে প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে পরিচালিত হবে বলে আমরা মনে করি।
মাদ্রাসার দাতা সদস্য মো. নুরুন্নবী সরকার বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমার দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর কমিটি গঠন করা জরুরি।
স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, তাঁরা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অবস্থান নিতে চান না। বরং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে এডহক কমিটির সভাপতি পদে স্থানীয় যুবসমাজের একজন যোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোড়াই পিয়ার পিয়ারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর সবুরের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন আমি জনমত উপেক্ষা করিনি। আমি তাদের সমঝোতা করে আসতে বলছি ওনারা জনসমর্থন নিয়ে আসছে। সরকারি লোক যেহেতু নেয়ার অপশন আছে তাই আমি সরকারি