রিপোর্টার : সোহেল রানা
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পরে ধাপে ধাপে টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী জানান, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে। বর্তমানে টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ।
ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম
থার্ড টার্মিনাল একবারে পুরোপুরি চালু না করে প্রথমে আংশিকভাবে চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় কাজ ও বিভিন্ন সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আগের সময়ে টার্মিনাল চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমন্বিত প্রস্তুতি যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট, বিভিন্ন মেশিন ও অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে ইন্টিগ্রেশনের কাজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে এসব ঘাটতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে কাজ চলছে।
বাড়বে বিমানবন্দরের সক্ষমতা
থার্ড টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী। তখন একসঙ্গে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা তৈরি হবে।
মন্ত্রীর মতে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে শুধু যাত্রীসেবার মানই উন্নত হবে না; দেশের বিমান পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ বেড়েছে
থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ ১৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী।
এ ছাড়া টার্মিনালের কাজের বিপরীতে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরই মধ্যে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৫ মিনিটে লাগেজ দেওয়ার নির্দেশ
নতুন টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিমান থেকে নামার পর লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, যাত্রীরা যাতে বিমান থেকে নামার পর ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পালন করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহ করা না হলে সংশ্লিষ্টদের জরিমানার আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
পরিবর্তন হচ্ছে না শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম
থার্ড টার্মিনাল চালু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে আসে। তবে এ মুহূর্তে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই বলে স্পষ্ট করেছেন বিমানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থ অতিরিক্ত ব্যয় করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে চায় না সরকার। ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান নামই বহাল থাকবে।
মন্ত্রী আরও জানান, ১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধনের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।