এম এইচ মুন্না:
আমলাতান্ত্রিক মহলের জটিল গোলকধাঁধা, কায়েমি স্বার্থান্বেষী চক্রের বিষাক্ত থাবা এবংতদবির-বাণিজ্যের ইতি টেনে গণপূর্তে সারোয়ার আলমের বাজিমাত সুগভীর চক্রান্তের অন্ধকার অলিগলি ধূলিসাৎ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রশাসনে ইস্পাতকঠিন নীতি ও সুশাসনের এক অভূতপূর্ব ধ্রুবতারা হিসেবে ভাস্বর হয়ে উঠেছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-২) মো. সারোয়ার আলম। জটাজালে আচ্ছন্ন প্রশাসনিক যন্ত্রে নিশ্ছিদ্র স্বচ্ছতা, অদম্য নিরপেক্ষতা ও লৌহকঠিন ‘চেইন অব কমান্ড’ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার গৃহীত প্রতিটি দূরদর্শী পদক্ষেপ আজ কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের বুকে এক তীক্ষ্ণ শেলের মতো বিদ্ধ হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা তদবির-বাণিজ্য, কোটি কোটি টাকার লেনদেন নির্ভর তোষণ নীতি এবং কৃত্রিম অচলাবস্থার দুর্ভেদ্য দুর্গ এক নিমেষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে তিনি হাতেনাতে প্রমাণ করেছেন, প্রশাসনিক প্রজ্ঞা ও চরিত্রের তেজের কাছে দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের যাবতীয় চালবাজি নিতান্তই ছারখার হতে বাধ্য।
সম্প্রতি গণপূর্তের ইএম বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একটি বিশেষ মহল অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম-নীতি, জ্যেষ্ঠতা এবং প্রচলিত প্রশাসনিক বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা প্রশাসনিক গতিশীলতা স্থবির করার দুঃসাহসিক পাঁয়তারা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ক্যাডার সার্ভিস বিধিমালা এবং প্রচলিত পদোন্নতি নীতিমালার প্রতিটি কঠোর শর্ত অক্ষুণ্ণ রেখেই বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মন্ত্রণালয়ের সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলম একজন অত্যন্ত সৎ, নীতিবান, বিচক্ষণ ও আইনানুগত কর্মকর্তা। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তার নিশ্ছিদ্র দক্ষতা ও বিধিনিষেধের কঠোর প্রয়োগের কারণে স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার না হওয়ায় তারা এই ধরনের বানোয়াট অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে চাকরিবিধি, জ্যেষ্ঠতার তালিকা এবং সার্ভিস রুলস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি নিয়ম মেনেই পদোন্নতির ফাইল ডিপিসিতে উপস্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মিথ্যা ও অপপ্রচারের ধোঁয়াশাজাল ছিন্ন করে দূরদর্শী এই কর্মকর্তা প্রমাণ করেছেন যে, কোনো বেনামী অভিযোগ বা চক্রান্তের কাছে নীতি-নৈতিকতার মাথা নত করার সুযোগ বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোতে নেই।
প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক অজুহাত ও স্বজনপ্রীতির গভীরে নির্মম কুঠারাঘাত করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক ‘বদলি-বিপ্লবের’ পথপ্রদর্শক মো. সারোয়ার আলম। তার ধারাবাহিক দূরদর্শিতায় একে একে চূর্ণ হয়ে গেছে বদলি সিন্ডিকেটের একছত্র সাম্রাজ্য। দীর্ঘদিন ধরে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির কার্যালয়ের গোলকধাঁধা এবং অভিজ্ঞতার অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে যে চক্রটি কোটি কোটি টাকার রমরমা বদলি-বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল, লটারি মডেলে তাদের সমস্ত সমান্তরাল সিন্ডিকেট ব্যবস্থা নিমিষে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সেগুনবাগিচাস্থ পূর্ত ভবনের কনফারেন্স রুমে সারোয়ার আলমের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে আয়োজিত রুদ্ধশ্বাস লটারি-যজ্ঞে ১৫২ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও ৬৭ জন সহকারী প্রকৌশলীকে (ই/এম) এক পরোয়ানায় স্থানান্তরিত করা হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কঠিন জাঁতাকলে ১৩৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) ও ৫৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকেও (ই/এম) পদায়নের একক চেইনে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলমের প্রত্যক্ষ বলিষ্ঠ নেতৃত্বে লটারির মাধ্যমে ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং ২৫৪ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে (ই/এম) একযোগে বদলি করা হয়, যা পূর্ত ভবনের ইতিহাস চূর্ণ করে তাকে এক অনন্য ও অপ্রতিরোধ্য প্রশাসনিক কান্ডারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ ধারা এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ২৬ ধারা লঙ্ঘন করে যারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের সকল অপচেষ্টা ধূলিসাৎ করে সারোয়ার আলমের এই মহাবিপ্লব প্রমাণ করেছে, প্রশাসনিক তেজ ও অক্ষুণ্ণ সততাই সুশাসনের একমাত্র রাজপথ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-২) মো. সারোয়ার আলম
বলেন, “গণপূর্তের মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, তদবির-সংস্কৃতি এবং বৈষম্যের কোনো স্থান থাকতে পারে না। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। লটারির মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলীর বদলি কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়, বরং এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নিশ্ছিদ্র জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। গণপূর্তের ইতিহাসে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, যা মাঠপর্যায়ে কাজের গতিশীলতা ও সততার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”