মোঃ তহিদুল ইসলাম শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
আইন-কানুন ও স্থানীয় প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কেশরীপুর গ্রামে শুরু হয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। ড্রেজার মেশিনের তাণ্ডবে বিলীন হওয়ার পথে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট এবং বসতবাড়ি। প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত হুমকির মুখে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ভূক্তভোগী গ্রামবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি অভিযোগ, সৈয়দপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন ইসলাম (পিতা: মর্তুজার রহমান বাবু) ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমের যৌথ নেতৃত্বে চলছে এই অবৈধ বালু বাণিজ্য। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেশরীপুর গ্রামে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অবাধে মাটির বুক চিরে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। অনবরত বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের আবাদি জমি দেবে যাচ্ছে এবং চলাচলের রাস্তাঘাটসহ বসতবাড়িতে বড় ধরনের ফাটল ও ধসের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জনপ্রতিনিধি হয়েও শাহিন মেম্বার নিজে এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন, যা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধ না করা হলে খুব শীঘ্রই কেশরীপুর গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং চিরতরে নষ্ট হবে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি।
এ বিষয়ে দ্রুত সরেজমিনে তদন্তপূর্বক অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করা এবং ইউপি সদস্য শাহিন ও আলমসহ জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বালুমহাল আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।