রিপোর্টার : সোহেল রানা
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আরও ১১টি অত্যাধুনিক বোয়িং উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুরসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের চলমান বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বহর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার আলোকে এই ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের দীর্ঘদিনের কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক উড়োজাহাজ সরবরাহ এবং পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আস্থা জুগিয়েছে।
রুমী এ হোসেন আরও বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে দেশের জনগণ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, নতুন এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি পরিচালন সক্ষমতা, নমনীয়তা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখবে। বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও চুক্তিটি সহায়ক হবে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, জাতীয় অগ্রাধিকার, প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও বহর ও নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।