নার্গিস রুবি: ঢাকার পশ্চিম কাফরুলের তালতলা বড়বাড়ী এলাকার বাড়ি-১৩৪/৬-এ অবস্থিত ভবনে নকশাবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মাতৃছায়া প্রপারটিস লিমিটেডের ওপর ২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয় এবং এক মাসের মধ্যে ব্যত্যয়কৃত অংশ নিজ দায়িত্বে ভেঙে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে রাজউকের এ নির্দেশনা অমান্য করে ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানি ব্যত্যয়কৃত অংশ অপসারণ না করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অথরাইজড অফিসার মাসুক আহমেদ জানিয়েছিলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের কারণেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান বলেছিলেন, উচ্ছেদ অভিযান রাজউকের একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। জোন ৩/২ এলাকায় নকশার ব্যত্যয়কৃত কিছু ভবনে অভিযান চালানো হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইমারত পরিদর্শক মোহন জানিয়েছিলেন, ভবন মালিকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন (এজিএম) ভবনটির নির্মাণকারী হিসেবে পরিচিত।
ডেভেলপার কোম্পানি ও ভবন মালিকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুতর। ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ৩ অনুসারে অনুমোদিত নকশা ও শর্ত লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। ধারা ৩বি-তে অথরাইজড অফিসার বা কমিটি অবৈধ নির্মাণ বা সংযোজন অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন। এই নির্দেশ অমান্য করা বা নকশাবহির্ভূত নির্মাণ চালিয়ে যাওয়া ধারা ১২-এর অধীনে অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অন্যূন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া আদালত অবৈধ অংশ অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন। ধারা ১৩ অনুসারে কিছু অপরাধ আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য।
সাম্প্রতিক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ধারা ৫৪ অনুসারে অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ করলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। নির্দেশ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শাস্তির সুযোগ আছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) লঙ্ঘনও এসব আইনের আওতায় পড়ে।
অথচ এ পর্যন্ত ডেভেলপার কোম্পানি ও ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ বা সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। শুধু জরিমানা ও অপসারণের নির্দেশ দিয়েই সীমিত রাখা হয়েছে।
রাজউক সূত্র ও সাম্প্রতিক অভিযানগুলো থেকে জানা যায়, সংস্থাটি নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাচ্ছে। জোন ৩/২সহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযানে জরিমানা, অবৈধ অংশ অপসারণ এবং বিদ্যুৎ মিটার জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাভারসহ অন্যান্য স্থানেও অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাটের অভিযোগও উঠেছে।
মাতৃছায়া প্রপারটিস লিমিটেড ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক প্রকল্প পরিচালনা করে। তাদের তালতলা-বড়বাড়ী এলাকার এ প্রকল্প নিয়ে আগেও প্রচার চালানো হয়েছিল।
রাজউকের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ায় ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ধারা ১২ এবং রাজউক অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ধারা ৫৪ অনুসারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা (ফৌজদারি মামলাসহ) নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।