ফৌজি হাসান খান রিকু
স্টাফ রিপোর্টার-
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া এলাকায় সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের পাড়, পরিবেশ ও স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জমির মালিকরা।
সাতঘড়িয়া মৃধাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শিপু মৃধার বিরুদ্ধে গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে ভোররাতে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে ট্রলি ও মাহিন্দ্রাযোগে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিপু মৃধা।
ভুক্তভোগী লাইজু আক্তার বলেন, ২০২২ সালে সাতঘড়িয়া মৌজায় তিনি ১১ শতাংশ ৩০ পয়েন্ট জমি ক্রয় করেন। জমিটি ভোগদখলে রেখে সেখানে বিভিন্ন ফলদ ও কাঠজাতীয় গাছ লাগিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে শিপু মৃধা ওই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি পাশের সরকারি হলদিয়া-গোয়ালীমান্দ্রা খালের সাতঘড়িয়া অংশ থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ করেন তিনি।
লাইজু আক্তারের স্বামী কাওছার অভিযোগ করেন, তাঁদের জমি থেকে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিয়মিত গ্রামে বসবাস করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, এ সুযোগে মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। শিপু মৃধার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও করেন তিনি।
সরেজমিনে সাতঘড়িয়া মুরগির খামারসংলগ্ন এলাকায় মাটি কাটার চিহ্ন দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনে করে মাটি অন্যত্র নেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, মাটি পরিবহনের কারণে সম্প্রতি নির্মিত স্থানীয় সড়কটিরও ক্ষতি হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে শিপু মৃধা বলেন, তিনি কোনো সরকারি খাল থেকে মাটি কাটছেন না। নিজের জমির মাটি বিক্রি করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, সরকারি খাল থেকে মাটি কাটার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মাটি বিক্রির ক্ষেত্রেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি খালের বিষয়টিও খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাল রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও স্থানীয় সড়ক রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।