মোঃগোলাম রাব্বী,স্টাফ রিপোর্টার:- পটুয়াখালীতে মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ নামের এক ব্যক্তির ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মোঃ জহির উদ্দিন কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে পটুয়াখালীর ছোট চৌরাস্তায় বসবাস শুরু করেন মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ। সেখানে টাউন কালিকাপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জহির উদ্দিন কাইয়ুমের সাথে তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে শাহাবুদ্দিন আহমেদ হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে কাইয়ুম সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করে তার গভীর বিশ্বাস অর্জন করেন।
হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার পর, জহির উদ্দিন কাইয়ুম ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সঙ্গে নিয়ে জমি বায়না রেজিস্ট্রি করার উদ্দেশ্যে ব্যাংকে যান শাহাবুদ্দিন। ব্যাংক থেকে সংগৃহীত ৭ লাখ টাকা এবং বাসা থেকে আরও ৫ লাখ টাকা—মোট ১২ লাখ টাকা একটি ব্যাগে নিয়ে বড় চৌরাস্তার কামাল মৃধার জমির বায়না দিতে রেজিস্ট্রি অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা।
পথিমধ্যে বায়না দলিলের পরিচিত হওয়ার জন্য এনআইডি কার্ড আনার অজুহাতে জহির উদ্দিন কাইয়ুম তার বাসার সামনে শাহাবুদ্দিন ও মামুনকে দাঁড় করিয়ে সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি নিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে বাসার পেছনের দরজা দিয়ে ১২ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর কাইয়ুমের স্বজনদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।
এ ঘটনার পর তিন দিন অপেক্ষা করে ১২ মার্চ ২০২৫ তারিখে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
পুলিশের অভিযানের মুখে নিজেকে বাঁচাতে প্রতারক কাইয়ুম একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া শুরু করেন, মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন এর বিরুদ্ধে।
প্রথম মামলা: ১৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা (১৬/২০২৫) দায়ের করেন। তবে পুলিশ তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন ও সময়ে কাইয়ুম পটুয়াখালীতে ছিলেন না, বরং ভোলা জেলার লালমোহনে অবস্থান করছিলেন। শাহাবুদ্দিন ও মামুনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় পুলিশ বাদী কাইয়ুমের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি প্রার্থনা করে।
দ্বিতীয় মামলা: ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি ফৌজদারী মোকদ্দমা (এম.পি ১৮৪/২০২৫) করেন কাইয়ুম। আদালতের নির্দেশে পুলিশের তদন্ত এবং পুনঃতদন্তে উভয়বারই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক প্রমাণিত হলে আদালত আসামি মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বেকসুর খালাস দিয়ে মামলাটি নথিজাত করেন।
এনআই অ্যাক্টের মামলা: শাহাবুদ্দিন আহমেদ থানায় অভিযোগ করার ৯ মাস পর জহির উদ্দিন কাইয়ুম পুনরায় শাহাবুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টে ভুয়া চেকে টাকা দাবির আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, "আমি কাইয়ুমের কাছ থেকে কখনো কোনো টাকা নেইনি এবং তাকে কোনো চেকও দেইনি। আমি আইনি লড়াই চালাব, ইনশাআল্লাহ সত্যের জয় হবে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতারণার তথ্য আড়াল করতে কাইয়ুম তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ছবি ও ভুয়া তথ্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জহির উদ্দিন কাইয়ুমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।