মোঃ আনিসুর রহমান শেলী : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের গুঞ্জন পুরো উপজেলাজুড়ে চাউর হলেও আইনি হয়রানির ভয়ে স্থানীয়দের অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সম্প্রতি ঘাটাইলের এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এই বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ তুলেছেন।
ভুক্তভোগী ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর ঘাটাইল উপজেলার বাসিন্দা মোঃ রিপন খন্দকার ভূঞাপুরের মাটি কাটা বালুরঘাট থেকে রশিদের মাধ্যমে বৈধভাবে এক ড্রাম ট্রাক প্লাস্টার বালি (মোটা বালি) ক্রয় করেন। ওই দিন রাত আনুমানিক ১০:০০ ঘটিকায় ছাব্বিশা রেলগেটের নিকট পৌঁছালে ভূঞাপুর থানার ওসি রেজাউল করিম ট্রাকটি থামিয়ে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে গাড়ির মালিক রিপন খন্দকার দ্রুত থানায় গিয়ে রাতভর অনুনয়-বিনয় করলেও ওসি গাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
গাড়ির মালিক রিপন খন্দকার বলেন, "আমি একজন শিক্ষিত বেকার যুবক, এই গাড়িটির ভাড়াই আমার সংসারের একমাত্র উপার্জনের সম্বল। বৈধ কাগজপত্র ও বালি ক্রয়ের রশিদ থাকা সত্ত্বেও ওসি স্যার বলেন—‘ড্রাম ট্রাক মানেই অবৈধ ভিটি বালি’। এক পর্যায়ে তিনি গাড়ি ছাড়ার বিনিময়ে আমার কাছে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে গাড়ি আটক রেখে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। পরদিন ৫ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত আকুতি জানালেও তিনি টাকা ছাড়া গাড়ি ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
গাড়ির চালক শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৪ অক্টোবর রাতেই বালি লোড করে ফেরার পথে ছাব্বিশা এলাকা থেকে ওসি নিজে গাড়িটি আটক করে থানায় নিয়ে যান।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চাহিদামতো ঘুষের টাকা না পেয়ে ওসি রেজাউল করিম টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশকে খবর দিয়ে মামলার ব্যবস্থা করেন। তবে নথিপত্রে রাত ১০টার আটকের ঘটনা গোপন করে পরদিন ৫ অক্টোবর বিকেল ৩:৪৯ মিনিটে মামলা দেখানো হয়। শুধু তা-ই নয়, ছাব্বিশা রেলগেট থেকে গাড়ি আটক করা হলেও এজাহারে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে টাঙ্গাইলের নিরালা মোড়।
এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মনে নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য—যদি অপরাধ হয়েই থাকে তবে ৪ তারিখ রাতে আটক গাড়ি কেন ৫ তারিখ বিকেল পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা হলো? এই দীর্ঘ সময় কি তবে ঘুষের দরকষাকষির জন্যই ব্যবহার করা হয়েছিল?
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভূঞাপুর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষিত বেকার যুবককে মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ভূঞাপুরবাসী দ্রুত উক্ত ওসির বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিমের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ঘুষ দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ড্রাম ট্রাকে অবৈধভাবে বালি পরিবহন করা হচ্ছিল। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ট্রাফিক বিভাগকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করা হয়নি।