তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ জাকির হোসেন-টুটুল।
রাজশাহীর তানোর এর মুন্ডুমালা মহিলা সমবায় সমিতির সদস্য নাসির উদ্দিন ঋণের দুই মাসের কিস্তি দিতে না পারায় ঋণ গ্রহিতার ট্রাক আটক করেছেন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। তারা তাকে টাকা পরিশোধের জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন।
এতে জীবীকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন ট্রাক নিয়ে নেওয়ার কারণে দিশেহারা ঋণ গ্রহিতা নাসির উদ্দিন মানসিক ভারসাম্য হারানোর আশঙ্কা। ঋণ গ্রহণের সময় কৌশলে ও প্রতারণার মাধ্যমে নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষরিত ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও তিন শত টাকা মুল্যর নন- জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নেয়া হয়েছে।
কিস্তি না দিলে তারা আইনের আশ্রয় নিবেন, কিন্ত্ত রাস্তায় ট্রাক আটক করা কতটা মানবিক বা যুক্তিযুক্ত? এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
জানা গেছে গত বুধবার তানোর এর মুন্ডুমালা পৌর এলাকার সাদিপুরস্থ একটি তৈল পাম্পে তৈল নিতে গেলে ট্রাক টি আটকের ঘটনা ঘটে।
এদিকে আটকৃত ট্রাক টি উদ্ধারের দাবিতে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে,
মুন্ডুমালা মহিলা সমবায় সমিতি থেকে তিনি কিস্তিতে একটি মিনিট্রাক ক্রয় করেন। চুক্তি মোতাবেক পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে সমিতিকে ২৬ হাজার টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
নাসির উদ্দিন প্রায় ৩৪ মাস নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে ২৬ হাজার টাকা করে কিস্তি পরিশোধ করে আসছেন। কিন্ত্ত বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং এলাকায় কৃষিপণ্যর দরপতনে পণ্য
পরিবহন ব্যবসার নাজুক পরিস্থিতি। এতে গাড়ির ভাড়া কমে যাওয়ায় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি গত দুই মাসের কিস্তির টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করিতে পারেন নাই। কিন্ত্ত তার পরেও তিনি মানুষের কাছে ধার-দেনা করে পনেরো হাজার টাকা সমিতিকে পরিশোধ করেন এবং অবশিষ্ট টাকা দ্রুত পরিশোধ করার আশ্বাস দেন।
এমতাবস্থায় বুধবার (১৪-অক্টোবর) সকালে গাড়ির চালক (আমিন আলী) গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে নাচোল হইতে মুন্ডুমালা বাজার সংলগ্ন মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশনে গাড়ির তৈল নেওয়ার জন্য গাড়ি পার্কিং করলে সমিতির ম্যানেজার গাড়ির চালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং গাড়িটি আটক করে রাখেন। পরবর্তীতে গাড়ি সেখানে রেখে চালককে গাড়ি না চালোনোর হুমকি দিয়ে, তাড়িয়ে দেন।
এমতাবস্থায় নাসির উদ্দিন সমিতির ম্যানেজারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চাইলে, ম্যানেজারের নাসির উদ্দিন কে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং গাড়ি তাকে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
অথচ নাসির উদ্দিন দীর্ঘ প্রায় চৌত্রিশ মাস নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন এবং বর্তমানে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সাময়িক সমস্যার জন্য তার অর্থ উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ট্রাক আটক করায় তিনি পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মুন্ডুমালা মহিলা সমবায় সমিতি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) সনদ ছাড়াই সঞ্চয় গ্রহণ ও উচ্চ সুদে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, তিনি এখানো অভিযোগ হাতে পাননি।তিনি বলেন, অভিযোগ হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
এবিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, কল গ্রহণ না করায় সমিতির সভাপতি উম্মে কুলসুম এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে সমিতির ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, তাদের গ্রাহক প্রায় এক হাজার এবং ৪ জন স্টাফ রয়েছেন। তিনি বলেন, সমবায় সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করতে (এমআরএ) সনদ লাগে না। তিনি আরো বলেন, ফাঁকা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ট্রাক দেয়া হয়েছে, সভাপতির নির্দেশে ট্রাক আটক করা হয়েছে।শনিবার অফিসে বসে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এবিষয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, তাকে নতুন ট্রাক দেয়ার কথা বলা হলেও রিকন্ডিশন ট্রাক দেয়া হয়। ট্রাক নেয়ার এক মাসের মধ্যে ট্রাকের ইঞ্জিন বিস্ফোরিত হয়, ইঞ্জিন ও বডি মেরামত করতে তার প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ ও দেড়মাস সময় লাগে, সমিতি কোনো টাকা দেন নাই। তবুও আমি সময়েও কিস্তি পরিশোধ করেছি।
আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বরাবর সুষ্ঠ সমাধান চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছি।