মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সাপের কামড়ে মাহমুদা আক্তার (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে বাড়ির উঠানে সাপের কামড়ের শিকার হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। কিশোরী মাহমুদার এমন অকালপ্রয়াণে পরিবার-পরিজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত মাহমুদা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ফিরোজ মিয়া এবং মা মাহিনুর বেগম। সে ধান্যদৌল আব্দুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজের ঘর থেকে চাচার ঘরে ঘুমাতে যাওয়ার সময় বাড়ির উঠানে সাপের কামড়ের শিকার হয় মাহমুদা। ঘটনার পর তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম আব্দুল্লাহ তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মাহমুদাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ১টার দিকে তাকে ব্রাহ্মণপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের দাদা খোরশেদ আলম জানান, সাপে কামড়ানোর পর মাহমুদাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়।
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই মাহমুদার জীবনের এমন করুণ পরিণতিতে শোকস্তব্ধ স্বজনেরা। যে বয়সে বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ে যাওয়া, সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে দিন কাটানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা, সেই বয়সেই অকালে থেমে গেল তার জীবনের পথচলা। কিশোরী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে ধান্যদৌল গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।