মোঃ আনিসুর রহমান শেলী :
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি পবিত্র স্থান মসজিদের পাশেই প্রকাশ্যে প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ক্ষতিকারক ‘বার্নিশ অয়েল’ (বার্নিশ তেল)। এর থেকে নির্গত হচ্ছে কালচে ও মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়া, যার প্রভাবে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর উত্তরপাড়া গ্রামবাসী দ্রুত কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য তোয়াক্কা না করেই একটি চক্র নিষিদ্ধ বা বর্জ্য প্লাস্টিক পুড়িয়ে বার্নিশ অয়েল তৈরির কাজ চালিয়ে আসছে। তাও আবার তৈরি করা হচ্ছে দুর্গাপুর উত্তরপাড়া মসজিদের একেবারে গা-ঘেঁষে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দুর্গাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান,একই এলাকার জয়নাল, সুমন প্রমানিক,ছুরমান,রুপচানসহ ৮-১০ জন মিলে দিন-রাত সমানতালে প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে বাতাসের সঙ্গে তীব্র রাসায়নিক গন্ধ ও বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আশেপাশের শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়াসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
তার আরোও জানান,বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ সরাসরি মসজিদে প্রবেশ করায় মুসল্লিরা ঠিকমতো নামাজ আদায় করতে পারছেন না। নিয়মিত এবাদত-বন্দেগিতে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
আশেপাশের গাছপালা ও কৃষিজমিতেও বিষাক্ত ছাই জমা হয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, "দুর্গাপুর উত্তরপাড়া একটি পবিত্র মসজিদের পাশে কীভাবে এমন ক্ষতিকর ও অবৈধ কাজ চলতে পারে? আমরা দিনরাত বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে বাস করছি। আমাদের সন্তান ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। একাধিকবার বাধা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা তা তোয়াক্কা করছে না।
গ্রামবাসীর একদাবি—অবিলম্বে এই পরিবেশদূষণকারী কারখানা বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার জানান, শীঘ্রই ওখানে অভিযান করে অবিলম্বে পরিবেশদূষণকারী জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।