নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনার পুরাতন যশোর রোডের দেয়াল ছিল রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপনে ঠাসা। সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট শ্রীহীন করেছিল এক সময়ের সাজানো নগর খুলনাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে শ্রীহীন সেই রূপ ঘুচে গেছে,অবৈধ সব স্থাপনা অপসারণ করে সড়ক দ্বীপে লাগানো হয়েছে ফুলের গাছ । দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বিভাজকে লাগছে রঙের প্রলেপ । সবচেয়ে আকর্ষণীয়ভাবে সেজেছে নগরীর সরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়াল। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, মোংলা বন্দর, পাটকল,এ অঞ্চলের খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, শিল্পী, ইতিহাস-ঐতিহ্যের গ্রাফিতি দেয়ালগুলোতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে লাগানো সব তোরণ ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেতাকর্মীদের লাগানো ফেস্টুনও। এবারই প্রথম সরকারপ্রধানের আগমনে যত্রতত্র তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না। সেই স্থানে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সুসজ্জিত কাটআউট বাড়তি একটি আকর্ষণ তৈরি করেছে ।
সফরসূচি অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়ক পথে খুলনায় আসবেন তিনি। ওই দিন বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩ উপজেলায় "নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-সিজন-২"-এর উদ্বোধন করবেন । বিকেলেই তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরবেন। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা নগরীতে এটাই প্রথম সফর।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যানার-তোরণ দিয়ে না ঢেকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, মধ্য অক্টোবর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশ ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। ওই ১২ দিনে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। সড়কদ্বীপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছ। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় খুলনার সড়ক বিভাজকগুলো ভেঙে যায়। প্রায় দুই বছর পর সেগুলো নতুন করে সংস্কার ও রং করা হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনা জেলা স্টেডিয়াম, রেলস্টেশন, হাদিস পার্ক ও সোসাইটি সিনেমা হলের দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।