মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরোচীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় কাশ্মীরি শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কাবিলা এলাকায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে পশ্চিম মনিপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নিখোঁজ হন আদনান। রাত পেরিয়ে দিন গড়ালেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। অবশেষে দুই দিন পর কলেজ ক্যাম্পাসের অদূরে একটি পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আদনান আলতাফের বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার এবং মায়ের নাম নিগাদ বেগম। তাঁদের বাড়ি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বুনপাড়া, দাঙ্গালপাড়ায়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি ইন্ডিয়ান ফুড হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তাঁর সন্ধানে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম জানান, আদনান কিছুটা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ কারণে তাঁর মাকে সঙ্গে রেখে কলেজ ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর বুড়িচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজিত বড়ুয়া জানান, শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।