1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

।। মামলা না করার শর্তে চোরাই গরু ফেরত ।।  গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য চটিয়ে পড়েছে ৬মাস পরে!  

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৯৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চুরি যাওয়া দুটি গরু থানা-পুলিশের মাধ্যমে ফেরত পেয়েছিল রাজধানীর তুরাগের ভাটুলিয়া এলাকার আলম চান নামে এক খামারি । তবে চুরি যাওয়া গরু দুটি ফেরত পেয়েছিল স্থানীয় থানা পুলিশের মাধ্যমে । ঘটনাটি ঘটেছিল গেল বছরের মে মাসের ২১ তারিখে । ঘটনার সূত্রপাত যে ভাবে সংগঠিত হয়- আলম চানের আপন ভাই মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী বিল্লাল মাঝে মধ্যেই মাদক সেবন করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এমন কি বিভিন্ন লোকজনকে মার পিটেও করে থাকে । ঘটনার দিনেও সে মাদক সেবন করে আলম চান ও তার ছেলে শহিদুল ইসলাম কে উদ্দেশ্য অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এক পর্যায় আলম চান তাকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে সে আরও উত্তেজিত হয়ে আলম চানকে মারপিট শুরু করে । এই সময় আলম চানকে রক্ষা করতে তার ছেলে শহিদুল ইসলাম এগিয়ে আসলে বিল্লালের পক্ষ নিয়ে একই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে আক্তার ও ইউসুফ এবং পার্শ্ববর্তী নয়ানগর এলাকার ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সালাম ও কালাম শহিদুল ইসলামকে বাধা দেয় । এক পর্যায় তারা সকলে মিলে শহিদুল ইসলামকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে পালিয়ে যায় । পরে আলম চানের কর্মচারীরা আহত অবস্থায় শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করেন । এদিকে আলম চানও ছেলে কে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে চলে যান । এই সুযোগে একই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে আক্তার ও ইউসুফ এবং পার্শ্ববর্তী নয়ানগর এলাকার ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সালাম ও কালাম মিলে শহিদুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি গরুর খামার থেকে প্রায় চার লাখ টাকা মুল্যের দুইটি গাভী গরু চুরি করে নিয়ে যায় । গরু চুরির বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করেন । তার কিছুক্ষন পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তুরাগ থানার এস আই আবুল খায়ের । কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে চলে জান । এর প্রায় ঘণ্টা দুই পর ঘটনাস্থলে আসেন একই থানার এস আই মোঃ মোহাইমিনুর রহমান । ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি আলম চানকে জানান তার চুরি যাওয়া গরু দুইটি ফিরত এনে দেওয়া সম্ভব । তবে শর্ত আছে । আলম চান শর্তের বিষয়টি জানতে চাইলে, পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন গরু ফিরত পাওয়ার পর কোন প্রকার মামলা মোকদ্দমা করা যাবে না আর আমাদের পারিশ্রমিক বাবদ অগ্রিম বিশ হাজার টাকা দিতে হবে । পরে আলম চান কোন উপায়ন্ত না পেয়ে এক প্রকার নিরুপায় হয়েই এই পুলিশ কর্মকর্তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাকে বিশ হাজার টাকা দেন । টাকা নিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা চলে জান । তার কিছুক্ষণ পরেই পুলিশের এই কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আলম চানের নিকট খবর আসে চুরি যাওয়া গরু দুইটি পার্শ্ববর্তী একটি গাড়ীর গ্যারেজে রেখে গেছে চোরেরা । পরে আলম চান ঐ গ্যারেজে গিয়ে তার চুরি যাওয়া গরু দুইটি নিয়ে আসেন । উক্ত ঘটনাটি এতোদিন পরে এলাকায় জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্লের সৃষ্টি হয় । বর্তমানে বিষয়টি তুরাগে টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে । এর পূর্বেও এমন একাধিক মারপিটের ঘটনা ঘটিয়েছে আক্তার ও বিল্লাল গ্রুপ । গত ১১/৬/২০২২ইং তারিখ বিকালে ধউর এলাকায় আলম চানের ছেলে শহিদুল ইসলামের গতিরোধ করে আক্তার ও বিল্লাল সহ ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসী দল । পরে তাকে ব্যপক মারপিট করে তার সাথে থাকা টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যান তারা । এরপর পথচারীরা আহত অবস্থায় শহিদুলকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারী হাসপাতালে প্রেরন করেন । সেখানে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ১৩/৬/২০২২ইং তারিখে উক্ত ঘটনার বিষয় মামলা করতে তুরাগ থানায় যান শহিদুল ইসলাম । কিন্তু তুরাগ থানা পুলিশ তার মামলা না নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি নিয়ে পাঠিয়ে দেন এবং বলে দেন যে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে । কিন্তু আজবদি উক্ত ঘটনায় কোন প্রকার আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম । এর পূর্বে আক্তার হোসেন বাদি হয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে, গোপনে ২০/৩/২০২২ইং তারিখে ঢাকার বিজ্ঞ মহানগর হাকিমের ১৩নং আদালতে ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৭, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮৫, ৫০৬, ১০৯, ১১৪, ৩৪ ধারায় অভিযোগ এনে ৫১/২২- নং একটি মিথ্যা মামলা দ্বায়ের করেন । এই মামলায় আসামী করা আলম চান (৫৫), তার পিতা হযরত আলী (৯২), ছেলে শহিদুল ইসলাম ( ২৬) সহ তাদের প্রতিবেশী ও কর্মচারীসহ মোট ১১জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে । মামলার বিবরনে উল্লেখ্য করা হয় বাদির নিকট বিবাদী দ্বয়রা দীর্ঘদিন ধরে ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল । কিন্তু বাদী চাঁদা না দেওয়ায় গত ১১/৩/২০২২ইং তারিখ বিকাল ৫টার দিকে উক্ত বিবাদী দ্বয়রা বাদির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গাড়ির গ্যারেজে পিস্তল, সাটার গান, রিভলবার, চাকু, চাইনিজ চাপাতি, বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয় অস্ত্র নিয়া প্রবেশ করিয়া বাদীকে মারপিট শুরু করেন । তাকে উদ্ধারে তার ভাই ইসাহাক, ইউসুফ ও কর্মচারী সুমন আগাইয়া আসিলে তাদেরকেও মারপিট করা হয় । পরে বাদীর ঢাকা মেট্রো গ ৩৯- ৫২৩৭ সিরিয়ালের প্রাইভেট কারটি ভাংচুর করিয়া গাড়িতে থাকা সাড়ে ৫লাখ টাকা নিয়ে নেয় এবং তাদের সাথে থাকা আরও প্রায় লক্ষাধিক টাকাসহ স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি নিয়ে নেয় । বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তুরাগ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন । পরে তুরাগ থানার ওই এস আই মোঃ মোহাইমিনুর রহমান মামলাটি তদন্ত করেন । কিন্তু পুলিশের এই কর্মকর্তা মামলার সঠিক তদন্ত না করে বাদী পক্ষের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার মন গড়া ভাবে ২৪৩, ৪৪৭, ৪২৭, ৩২৩, ৫০৬ ধারায় ৫জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বিবাদীরা । পরে উক্ত মামলায় আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ মামলার এক বিবাদীকে গ্রেপ্তার করলে মামলার বিষয়টি জানতে পারেন উক্ত মামলার সকল বিবাদী দ্বয়রা । গ্রেপ্তারের আগে মামলার বিষয়টি কেউ জানেন না বলে দাবী করেন সকল বিবাদীগন । ভুক্তভোগী আলম চান জানান, শাহেব আলী মাদ্রাসার পাশেই তার মালিকানাধিন প্রায় দেড় বিঘা জমি রয়েছে । এর পাশেই রয়েছে সরকারী প্রায় ২ বিঘা জমি । আর সরকারী এই জমি কয়েকটি পরিবার ভোগ করতো । পরে সরকারী জমি ভোগকারী পরিবার গুলোর কাছ থেকে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে টাকা দিয়ে তাদের দখল পজিশন কিনে নেন আলম চান । পরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে তার নিজের জমি সহ উক্ত জমি ভরাট করে একটি গাড়ীর গ্যারেজ নির্মাণ করেন । এদিকে উক্ত মামলার বাদি পক্ষের প্রায় ৫ শতাংশ জমি রয়েছে এই গ্যারেজের পূর্ব পাশে তুরাগ নাদীর পাড় ঘেঁষে । উক্ত ৫ শতাংশ জমিও বাৎসরিক এক লাখ টাকায় ভাড়া দেন আলম চানকে । কিন্তু বিগত বছর দুই ধরে উক্ত গ্যারেজটি দখল নিতে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মামলার বাদী আক্তার হোসেনসহ একটি মহল । পরে কোন ভাবেই দখল নিতে না পেরে তারা এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবী করেন আলম চান । তিনি আরও জানান, মামলায় উল্লেখিত যে প্রাইভেট কারটি বাদীর নিজের বলে দাবী করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন । প্রকৃত পক্ষে বাদীর কোন প্রাইভেট কার নেই । উপরোক্ত মামলার বিষয় যানতে তুরাগ থানার এস আই মোঃ মোহাইমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলাটি অনেক আগের তাই এই মুহূর্তে তেমন কিছু বলতে পারছিনা । তবে সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই আমি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট