
শুভ সাহা:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় একমাত্র আসামি ইসমাইল হোসেন (৫৫) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত সোমবার (১৩ই অক্টোবর) বিকেলে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
রাত ৮টার দিকে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাউছার বাঁধন নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল হোসেন কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর গত শুক্রবার (১০ই-অক্টোবর) তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়,ভুক্তভোগীর বাবা বৃহস্পতিবার (৯ই-অক্টোবর) কালিহাতী থানায় মামলা করেন। এরপর থেকেই ইসমাইল আত্মগোপনে ছিলেন।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার তাকে দেলদুয়ার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আসামিকে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থার জন্য কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে,পুলিশ এবং মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী তরুণী ও ইসমাইলের বাড়ি পাশাপাশি।গত মার্চ মাসে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন ইসমাইল। ভয়ে মেয়েটি কিছু বলতে পারেনি। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবার বুঝতে পারে যে সে অন্তঃসত্ত্বা। লিখনির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন ইঙ্গিতের মাধ্যমে তরুণী ঘটনাটির ব্যাপারে আত্মপ্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে,ভুক্তভোগীর বাবা-মা বলেন,বোবা মেয়েটি এসএসসি পাস করেছেন।তাদের স্বপ্ন ছিলো মেয়েটি লেখাপড়া করে বড় কিছু হবে।কিন্তু নরপিশাচ মেয়েটার জীবন নষ্ট করে দিল,আমাদের মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সহপাঠী ও এলাকাবাসীরাও দোষীর কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন বলে তথ্য সূত্রে জানাগেছে।
উল্লেখ্য,কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান,রবিবার ভুক্তভোগী মেডিকেল পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। মেয়েটি ও তার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারি করছে বলে তথ্য সুনিশ্চিত করা হয়েছে।