1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

বিমানবন্দর অগ্নিকাণ্ডে সতর্কবার্তা, সব বন্দরে অগ্নি নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান- মো: মিজানুর রহমান

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১৮ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি অবকাঠামোগত দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি জাতীয় বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গভীর সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের সব স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় বীমা কাভারেজ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বেনাপোল, সোনামসজিদ, হিলি, বুড়িমারী, আখাউড়া, বালোনগরসহ দেশের সব স্থলবন্দর এবং চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর জাতীয় অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিন এসব বন্দরে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়, যা গুদাম, কার্গো শেড ও সংরক্ষণাগারে সংরক্ষিত থাকে। এসব পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উভয় পক্ষের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বন্দর এলাকার পণ্য সংরক্ষণাগারগুলোর ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে। এই ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বীমা কাভারেজ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে—সব বন্দর এলাকার গুদাম, কার্গো শেড ও প্রশাসনিক ভবনে ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং ধোঁয়া শনাক্তকরণ অ্যালার্ম স্থাপন; জরুরি বহির্গমন পথ (Emergency Exit) সচল রাখা ও নিয়মিত ফায়ার ড্রিল পরিচালনা; বন্দরভিত্তিক অগ্নি নিরাপত্তা কমিটি গঠন এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (Emergency Response Plan) প্রণয়ন। এছাড়া বন্দরের শ্রমিক, কর্মকর্তা ও এজেন্টদের নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বীমা কাভারেজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত বীমা আইন, ২০১০ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানদণ্ড (ICC & Incoterms) অনুযায়ী কিছু বীমা কাভারেজ বাধ্যতামূলকভাবে বিবেচনা করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে—Fire & Allied Perils Insurance (অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, বজ্রপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদিতে ক্ষতির সুরক্ষা), Warehouse Liability Insurance (গুদামে পণ্যের ক্ষতি বা মানবিক ত্রুটি থেকে সুরক্ষা), Cargo Insurance (Marine/Inland Transit Policy) (পরিবহনকালীন দুর্ঘটনা বা ক্ষতির সুরক্ষা), Business Interruption Insurance (অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনায় কার্যক্রম স্থগিত হলে আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধার) এবং Public Liability Insurance (তৃতীয় পক্ষের শারীরিক বা সম্পত্তিগত ক্ষতির দায় থেকে সুরক্ষা)।

তিনি আরও বলেন, দেশের বন্দরভিত্তিক সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষ—যেমন সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসমূহ, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক সংগঠন ও চেম্বার অব কমার্স—একযোগে বন্দর এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ও বীমা কাভারেজ নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বেনাপোলসহ দেশের সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরকে ‘Fire Safe & Fully Insured Trade Zone’ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এটি জাতীয় রাজস্ব, বাণিজ্যিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট