
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গৌরসার গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত দুই ভাই আহমেদ শরিফ (৪৫) ও খালেদ আহমেদ (৩৫) অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর কার্যকলাপে গ্রামজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। মৃত খালেক মিয়ার মেয়ে রাহেলা বেগমের এই দুই ছেলে নিজেদের মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি ও পেইজ খুলে গ্রামের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আসছে নিয়মিতভাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহমেদ শরিফ ও খালেদ আহমেদ নিজেদের “সাংবাদিক” পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তারা দাবি করে যে, তাদের “দেশ বিদেশের সংবাদ” নামে সরকার নিবন্ধিত একটি পত্রিকা রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, পত্রিকাটির কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই। তারা ভুয়া ফেসবুক পেইজ খুলে সংবাদকর্মীর পরিচয়ে মানুষের কাছ থেকে নানা প্রকার তথ্য নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, দুই ভাইয়ের এই অপপ্রচারমূলক কার্যক্রমে এলাকায় বিভ্রান্তি ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আহমেদ শরিফ ও খালেদ আহমেদের মা রাহেলা বেগম আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তাদের চাচা ও চাচাতো ভাইদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন। এসব মামলার কোনো সত্যতা না থাকায় পরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
তাদের নানা, মৃত খালেদ প্রধান ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সদস্য। নানার নাম ভাঙিয়ে বর্তমানে এই পরিবারটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি তারা সত্যিই মানসিক ভারসাম্যহীন হন, তবে কীভাবে ফেসবুকে নিয়মিতভাবে অপপ্রচার চালান, ভিডিও প্রকাশ করেন এবং অন্যদের হুমকি দেন? অনেকেই মনে করছেন, নানার সম্পত্তি দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যেই তারা “পাগল” পরিচয় ব্যবহার করছে।
এছাড়া জানা যায়, আহমেদ শরিফের পিতা মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদের সঙ্গে তার মা রাহেলা বেগমের বহু বছর ধরে কোনো সম্পর্ক নেই। মা ও দুই ছেলেই বাবার নামেও, এমনকি চাচাদের নামেও একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। দাদার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তারা এই পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ অর্থের প্রভাব ও প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে তারা এসব কর্মকাণ্ড নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বিষয়টি নিয়ে আহমেদ শরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন দ্রুত তদন্ত করে এই দুই ভাইয়ের অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে গ্রামে আবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।