
মোঃ হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন, গাজীপুরকে নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনী নিরপেক্ষতার আদর্শ মডেলে পরিণত করতে তিনি কঠোর, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। চ্যালেঞ্জ বড়, তবে সবাই একসাথে কাজ করলে গাজীপুর হবে সারা দেশের সামনে রোল মডেল।
রোববার (৩০ নভেম্বর) নতুন এসপি হিসেবে দায়িত্ব নেন মোঃ শরিফ উদ্দীন। ফুলেল শুভেচ্ছা, উষ্ণ অভ্যর্থনা ও চৌকস বাহিনীর গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে তাকে বরন করে নেয় গাজীপুর জেলা পুলিশ।
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একদিন পরই সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে পুলিশ সুপার সম্মেলন কক্ষে গাজীপুরের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি—যা নতুন এসপির কর্মতৎপরতার প্রথম শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভার শুরুতেই তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে আপনারাই পুলিশের সবচেয়ে বড় সহযোগী। সত্য ও নির্ভুল তথ্য আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বলেন, গাজীপুরের ট্রাফিক সমস্যা যেরকম বড়, তার সমাধানও ত্বরান্বিত হবে সমন্বিত উদ্যোগে। অরাজকতা, চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা,কোনো কিছুই বরদাশত করা হবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতার বিষয়ে কোনো আলোচনা নয়—শুধু বাস্তবায়ন হবে। গাজীপুরে জনগণ ভোট দেবে ভয়মুক্ত পরিবেশে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এসপি একে একে সব বক্তব্য শোনেন ও বলেন, গাজীপুরের উন্নত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য পুলিশ-সাংবাদিক-জনগণ সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। আমি মাঠে থাকব, মানুষের পাশে থাকব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আবু খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান (বিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও জেলার প্রভাবশালী গণমাধ্যম কর্মীরা।
নতুন এসপির ধারাবাহিক দুই দিনের সক্রিয়তা—দায়িত্ব গ্রহণ ও পরদিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়—গাজীপুরে নতুন গতিশীলতার সূচনা ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনেকে বলছেন, এটা গাজীপুরে আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তা ফেরানোর নতুন অধ্যায়।