
মো.হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতা ও অন্যতম সংগঠক ইছহাক (পিকু)-কে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একাধিক ফেসবুক পেইজ, ব্যক্তিগত আইডি ও মোবাইল নম্বর থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত রবিবার রাতে তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এসব হুমকিকে কেন্দ্র করে তার নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের একত্রিত করা, আন্দোলনকে তীব্রতর করা এবং রাজপথে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইছহাক পিকু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তাকে গাজীপুরের রাজপথে সরব দেখা যায়।
সম্প্রতি বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইছহাক পিকু বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন এবং সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। গত ১৯ ডিসেম্বর হাদীর ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ডাকে গাজীপুরে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব কর্মসূচির পর থেকেই তার বিরুদ্ধে হুমকি তীব্র আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইছহাক পিকু বলেন,
“পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দোসররা আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এতদিন এসব হুমকিকে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু এখন আমি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি, কারণ এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়- এটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি এই হুমকিতে ভীত নই। ওসমান হাদীসহ জুলাই শহীদদের রক্তের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভয় দেখিয়ে আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। বরং এই হুমকিই প্রমাণ করে স্বৈরাচারী শক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।”
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন,
“আমি চাই এই হুমকির উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক”।
এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন,
“এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।