
সাইদ গাজী,
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৪৪নং রাংগারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে থাকা ৭ থেকে ৮টি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মেম্বারের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চত্বরে প্রায় ১২ বছর আগে লাগানো মেহগনি গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী সালথা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে মুঠোফোনে অভিযোগ জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওবায়দুর শরিফ বলেন, দুপুরের দিকে তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীণা ম্যাডামকে বিষয়টি জানান। তখন তিনি বলেন, নান্নু মেম্বার দাবি করেছেন—গাছগুলো তার নিজস্ব জমির এবং তিনি সেগুলো বিক্রি করেছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীণা ম্যাডাম বলেন, নান্নু মেম্বার ফোনে তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমার জায়গার গাছ আমি বিক্রি করেছি, আপনার এত মাথাব্যথা কেন?’ পরে তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. তাশেম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের জমির ভেতরে গাছ হলে কোনোভাবেই তা কাটার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গাছ বহন বন্ধ করা হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কাটা গাছ বহনের জন্য একটি নছিমন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা গাছ রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, এসব মেহগনি গাছের বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। তবে নান্নু মেম্বার দাবি করেন, গাছগুলো বিদ্যালয়ের নয়; তার নিজস্ব জমির।