
মো. হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
বুধবার রাতের ঝাড়ু মিছিল ছিল শুধু ব্যঙ্গ বা প্রতীকী প্রতিবাদ নয়—তা ছিল সংগঠনের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। আর সেই বিস্ফোরণের ধাক্কাতেই ২৪ ঘণ্টা না যেতেই ভেঙে পড়ল পূবাইল থানা যুবদলের সদ্য ঘোষিত আংশিক কমিটি।
ঝাড়ু হাতে রাজপথে নামা যুবদল নেতাকর্মীরা বুধবার রাতেই দিয়েছিলেন স্পষ্ট আল্টিমেটাম—বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার মধ্যে কমিটি বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় যুবদল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়—পূবাইল থানা যুবদলের আংশিক কমিটি বিলুপ্ত।
কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গাজীপুর মহানগরের আওতাধীন পূবাইল থানা যুবদলের ঘোষিত কমিটি বিলুপ্ত করে পূর্বের কমিটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্তে এই আদেশ কার্যকর হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং মাঠের বাস্তবতা ও নিচের স্তরের চাপের সরাসরি প্রতিফলন।’পকেট কমিটি’ বিতর্ক থেকেই পতনের শুরু বুধবার রাতে মিরের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত ঝাড়ু মিছিলে ঘোষিত কমিটিকে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল—“বুড়া কমিটি, কাউয়া কমিটি, বেলচা কমিটি, আলু কমিটি, বেলজিয়াম কমিটি ও পকেট কমিটি।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, সভাপতি মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল খানকে এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে গাজীপুর–২ ও গাজীপুর–৫—দুই আসনেই ধানের শীষের ভোট বিভক্ত হয়। তাদের ভাষায়,“এটা সংগঠন নয়, এটা ভোট কাটার প্রকল্প।”
এই অভিযোগ শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঝাড়ু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন থানা, মহানগর ও সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ—যাদের বড় একটি অংশ অতীতে রাজপথে সক্রিয়, মামলা-হামলা মোকাবিলা করা পরীক্ষিত কর্মী।
কেন্দ্রের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে
বিশ্লেষকরা বলছেন, পূবাইলের ঘটনা আসলে বৃহত্তর একটি সংকেত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে যদি ভৌগোলিক কৌশল, পছন্দের লোক বসানো ও ত্যাগীদের উপেক্ষা চলতে থাকে—তবে ভাঙন আসবে ভেতর থেকেই।
একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের ভাষায়,
“ঝাড়ু মিছিল শুধু কমিটি বাতিল করেনি, এটি দেখিয়ে দিয়েছে—ভিত্তি ছাড়া নেতৃত্ব টেকে না।”
প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে,আজ কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—
নতুন কমিটি কি ত্যাগী ও মাঠের নেতাদের দিয়ে গঠিত হবে? নাকি আবারও নতুন মোড়কে ফিরবে সেই ‘পকেট রাজনীতি’?
ঝাড়ু মিছিল আপাতত থেমেছে,
কিন্তু পূবাইলের রাজনীতি এখনো পরিষ্কার হয়নি,ঝাড়ু হাতে যারা নেমেছিল, তারাই এখন নজর রাখছে পরের সিদ্ধান্তের দিকে।