
লালমনিরহাট প্রতিনিধি;
মো: রব্বানী ইসলাম
লালমনিরহাটে বিভিন্ন স্থানে ‘ঢাকা বিরিয়ানি, নান্না বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানী’সহ ঢাকার নামকরা বিরিয়ানির নামে চলছে বিরিয়ানি বিক্রি। ঢাকার বিভিন্ন নাম করা খাবারের নামে বিক্রি হচ্ছে এসব খাবার, যা অনেকটা মানহীন। ঢাকার সেই বিরিয়ানির স্বাদ পেতে গিয়ে ভোজন বিলাসীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। নামের সামান্য হেরফের করে নিচ্ছেন খাবার হোটেলের লাইসেন্স।
লালমনিরহাট মিশন মোড় থেকে কলেজ রোড সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় নামি-দামী বিরিয়ানির নামে রয়েছে খাবারের হোটেল এবং দোকান। সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় দেখা যায়, আকর্ষণীয় একটি সাইনবোর্ড। তাতে বড় অক্ষরে লেখা ‘পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজীর বিরিয়ানি হাউজ’। দোকানে ঢুকতেই আরেকটি সাইনবোর্ডে লেখা ‘পুরান ঢাকার নান্না কাচ্চি ঘর’। নাম শুনে মনে হবে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় হাজী বা ঢাকা বিরিয়ানির কোনো আউটলেট, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
মূলত এসব স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও খ্যাতিকে পুঁজি করে এবং গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে এই নাম ব্যবহার করছেন হোটেল মালিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্রেতারা ঢাকার আসল হাজী এবং নান্না ঢাকা সহ- বিরিয়ানির স্বাদ পেতে সেসব রেস্তোরাঁয় আসেন। কিন্তু খাবার শেষে ক্রেতারা ঢাকার বিরিয়ানির সেই স্বাদ পান না। ক্রেতারা না বুঝেই এসব নকল রেস্তোয়াঁয় ঢুকে নিন্মমানের খাবার খেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এতে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো সম্পর্কে তাদের মনে বিরূপ ধারণাও তৈরি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী এবং নান্না ঢাকা সহ- বিরিয়ানির নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে ওঠা এই বিরিয়ানি হাউজের খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয় নিম্নমানের উপাদান। ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস রান্না, পোড়া তেলের ব্যবহার, পরিমাণে কম দেওয়া এবং ক্ষতিকর কেমিকেল মিশ্রণের অভিযোগও রয়েছে অসাধু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।
রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাজী নান্না এবং ঢাকা সহ বিরিয়ানির নাম ব্যবহার হলেও আদতে দু’টি নামের একটিও পুরান ঢাকার নামকরা আসল হাজী কিংবা ঢাকা বিরিয়ানি নয়। মূলত নামকরা হাজী এবং ঢাকা বিরিয়ানির নাম ভাঙিয়ে ফায়দা নিতেই এ কূটকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার নামকরা নাম দেখে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি চলে এই বিরিয়ানি বিক্রি। কম খরচে বেশি লাভের আশায় স্বাদকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার তেমন খেয়াল নেই তাদের। সুস্বাস্থ্যের তোয়াক্কা না করে খাবার অতি সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক নানা কেমিক্যাল ও সুগন্ধি বাড়ানোর উপাদান। দিনের পর দিন একই তেল ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। খাবার তৈরির সময়েও অপরিশোধিত পানি ব্যবহার করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
হাজী এবং ঢাকা বিরিয়ানি খেয়ে লালমনিরহাটের মিশন মোড় থেকে শহরের বিভিন্ন, ব্যবসা বাড়ানোর জন্য দোকানের মালিক হাজী বিরিয়ানির নাম দিয়েছেন। এটা আসল হাজী বিরিয়ানি নয়। পুরান ঢাকার আসল হাজী বিরিয়ানি কেমন, তা দূর থেকে গন্ধ শুকেই বলে দেওয়া যায়।
পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানির সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক অথবা শাখা কি-না এ ব্যাপারে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি রেস্তোরাঁর এবং দোকান ম্যানেজার দের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইলে, তারা আমাদের জানান তবে কেন হাজী এবং ঢাকা বিরিয়ানির নাম ব্যবহার করা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, আমাদের মালিক পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানির দোকানে একসময় কাজ করতেন। এজন্য আমরা দোকানের নাম হাজী বিরিয়ানি হাউজ দিয়েছি। আবার কেউ কেউ বলেছে যে এই নাম গুলো তাদের ভালো লাগে বিধায় দিয়েছেন।
ক্রেতারা না বুঝেই নাম নকল করা হাজী এবং ঢাকা বিরিয়ানির স্বাদ নিতে রেস্তোয়াঁয় ঢুকে নিন্মমানের খাবার খেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এতে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো সম্পর্কে তাদের মনে বিরূপ ধারণাও তৈরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
লালমনিরহাট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো। ভোক্তা প্রতারিত হচ্ছে এমন কোনো বিষয় পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি/ মো: রব্বানী ইসলাম
তারিখ; ২৯-০১-২০২৬_