
মো: মিজানুর রহমান (পলাশ),ফেনী জেলা প্রতিনিধি,ফেনী
ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ফেনীতে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একের পর এক পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা তাদের হতাশ করছে। একটি বড় দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা বারবার নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মঞ্জু। তিনি জানান, গত শনিবার বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন ঈগল প্রতীকের একটি ডিজিটাল প্রচার গাড়ি (ক্যারাভান) আটকে দেন এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচনি কর্মী সাদ্দাম হোসেনকে আটক করেন। পরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঞ্জুর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রচার ক্যারাভান ব্যবহারের ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও কর্মকর্তা তা অগ্রাহ্য করেন এবং নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার ৭ (গ) ধারার অপব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তার আচরণে পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট এবং এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের প্রচারে বাধা, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। গত ২৮ জানুয়ারি বালিগাঁও ইউনিয়নে প্রচারকালে গাড়ি ভাঙচুর এবং সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। কাজিরবাগ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যেতে এবং এলাকা ছাড়তে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। নারী কর্মীদেরও নানা ভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্বাচনি পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, জেলা এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালিউল্লাহ মানিক, এবি পার্টির সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।