1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

উলিপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ, তদারকির ঘাটতি

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

উলিপুর উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম, সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে বিদ্যালয়গুলো ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয় চালু থাকার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র তার ব্যতিক্রম।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পাতিলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি খোলা থাকলেও শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা মাত্র ১২ জন। এ সময় শিক্ষক মোছা. বিলকিস বেগম ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ক্লাস নিলেও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল মাঠে খেলাধুলা করতে দেখা যায়।

 

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফফার, জিয়াদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান ও বিদ্যালয়ের দাতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয়ের অবস্থা ক্রমেই অবনতি ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক মোক্তারুল আলম বলেন, “বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা দেখে খুবই খারাপ লাগে। প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন। অবসর নেওয়ার পর থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে একদিনও তদারকিতে আসতে দেখিনি।”

 

অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী প্রফেসর আব্দুল কাদের বলেন, “এই স্কুলে নিয়মিত ক্লাস হয় না। প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। অন্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।”

 

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সার্বিক বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। এ সময় তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন,

“আপনার যা ইচ্ছা লেখেন।”

 

এদিকে পশ্চিম কিশোরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও একই রকম। সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি দুপুর ২টার আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “আজ আমাদের স্কুল ২টায় ছুটি হয়েছে। শুধু বাংলা আর গণিত ক্লাস হয়েছে। “অপর এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, “স্কুল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত থাকার কথা। কিন্তু স্কুল খোলে ১০টার পরে। ম্যাডামরা এসে শুধু ওয়াইফাই চালান।”

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. জেসমিন নাহারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে হোকডাঙ্গা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি বিকেল ৩টার মধ্যেই ছুটি দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নারগিস ফাতেমা তোকদার বলেন, “আমি বর্তমানে অসুস্থ থাকায় বিষয়টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ।”

 

এ বিষয়ে ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন ও আবুল কালাম বলেন, “অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও ব্যাহত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট