1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
March 19, 2026, 4:36 pm
Title :
গজারিয়ায় অবৈধ চুনা কারখানা শুরুর আগেই উচ্ছেদ. রূপসা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমান রুনু-র ঈদ উপহার পেলেন ৩৫০ জন।  সালথায় ১ মন পেঁয়াজে মিলছে না ১ কেজি ইলিশ রূপসায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৯০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ।  ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিলেন লাবনী সিদ্দিকী  মির্জাপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল যুবদল নেতা ইউসুফের মরদেহ: কুমিল্লার মুরাদনগরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমান-এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় শ্রীকাইল সরকারি কলেজে ইফতার মাহফিল ।  লালমনিরহাটে বড়ুয়া খাল পুনঃখননের শুভ উদ্বোধন করেন আসাদুল হাবিব দুলু এমপি ‎ কানাইয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে দোয়া ও ইফতার মাহফিল 

সালথায় ১ মন পেঁয়াজে মিলছে না ১ কেজি ইলিশ

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, March 19, 2026,
  • 36 Time View

 

 

 

সাইদ গাজী, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

পাট পেঁয়াজের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ফরিদপুরের সালথা উপজেলা। সেই পেঁয়াজের রাজধানীতে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। ১ মন পেয়াজ বিক্রি করে ১ কেজি ইলিশ মাছ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ১ মন পেয়াজ বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ১ কেজি গরুর মাংস। পেয়াজের দাম নিম্নমুখী হওয়ার চাষিদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

 

উপজেলার সালথা সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া, মাঝারদিয়া, নকুলহাটি, ফুলবাড়িয়া, সোনাপুর সহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে ১ মন (৪২ কেজি) পেয়াজ ৭০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। বাজার গুলোতে ছোট্ট সাইজের ইলিশ (২/৩ টায় কেজি) ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ১ জন কৃষক ১ মন পেয়াজ বিক্রি করে ১ কেজি ইলিশ ক্রয় করতে পারছেন না। আবার ১ কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। কোথায় ১ মন পেয়াজ বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ১ কেজি গরুর মাংস।

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি পেয়াজ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে পেয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১২৫০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে প্রায় ১১৫০০ হেক্টর। মুড়িকাটা ২০০ ও পেয়াজের বীজ ৫০ হেক্টর চাষ হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেয়াজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় হালি পেয়াজ উত্তলন শুরু হয়েছে। অনেকেই আবার অগ্রিম পেয়াজ উত্তলন করছে এর ফলে মোট উৎপাদন কমে যাবে।

 

উপজেলার কয়েকজন পেঁয়াজ চাষির সাথে কথা হলে তারা জানায়, চলতি পেঁয়াজ মৌসুমে গতবছরের তুলনায় বেশি পরিমানে পেঁয়াজের আবাদ করছে। ডিলাররা সিন্ডিকেট তৈরী করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরী করছে, এতে বেশি দামে সার ক্রয় করতে হয়েছে। তাছাড়া বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারনে মন প্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে পেঁয়াজের দাম ২৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা রাখার দাবি জানায় তারা। তাছাড়া পেঁয়াাজের বীজ ও রাসায়নিক সারের দাম কমানো ও সারের পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলেন কেউ কেউ। পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা বৃদ্ধি ও পেঁয়াজ চাষিদের স্বল্প মুনাফাতে কৃষি ঋণ প্রদানের দাবি জানান অনেকেই।

 

মৌসুমের মাঝামাঝি থেকে শেষ সময়ে পেঁয়াজ চলে যায় মজুতদারের হাতে, তখন দাম বাড়লে কৃষকের কোন উপকার হয় না। তাছাড়া পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগাড় না থাকার কারনে অনেকের পেয়াজ অল্পতেই পঁচে যায়। তাই বেশি বেশি পেঁয়াজ সংরক্ষণাগারের কথা তুলে ধরেন অনেকেই। বীজের অতিরিক্ত দামের কারনেও অনেকেই চারা উৎপাদন করতে পারেন না, সেক্ষেত্রে উচ্চ মূল্যে তাদের হালি পেঁয়াজ কিনে রোপন করতে হয়। পরিবহনের কারনে অনেক সময় হালি পেঁয়াজ নষ্ট হয়, উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। ফরিয়া ও ব্যাপারীরাও পেঁয়াজ চাষিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। এমন চলতে থাকলে পেঁয়াজ চাষে কৃষক মূখ ফিরিয়ে নিবেন বলে জানান।

 

উপজেলার, বিশিষ্ট পেয়াজ ব্যবসায়ী এরশাদ মোল্যা জানান, সারাদেশে সব জেলায় একত্রে পেয়াজ উত্তলন শুরু হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে বাজারে আমদানি প্রচুর হয়েছে। এজন্য আড়ৎ থেকে বাজার সব জায়গা দাম কম যাচ্ছে। তাছাড়া অপরিপক্ক, কাটা ও ফাটা পেয়াজরবাজারে দাম কম থাকে। ঈদ সানে রেখে ঢাকার অনেক আড়ৎ বন্ধ আছে, এই জন্য পেয়ায়ের দামের উপর প্রভাব পড়েছে। কিছুদিন পর হয়তো পেয়াজের দাম বৃদ্ধি পাবে।

 

উপজেলা কৃষি অফিসার সুদর্শন সিকদার বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যাতে সঠিকভাবে অর্জিত হয় সেজন্য সরকার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮০০ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পেয়াজের দাম নিযে চাষিদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। আশা করছি কৃষক পেয়াজের সঠিক দাম পাবে। প্রণোদনা বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজ সংরক্ষনাগারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষেকে জানানো হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট