
আফজল হোসেইন (শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি)
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার দোকান প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাস্তবায়ন নেই শ্রম আইন এতে অধিকার বঞ্চিত দোকান প্রতিষ্ঠান সমূহের কর্মচারী শ্রমিকরা
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ যা(২০০৬সনের ৪২নং আইন)শ্রমিক নিয়োগ,মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক,সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ,মজুরী পরিশোধ,কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্যে ক্ষতিপূরণ,ট্রেড ইউনিয়ন গঠন,শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি,শ্রমিকের স্বাস্থ্য,নিরাপত্তা,কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে সকল আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে প্রণীত আইন।
যদিও এ আইন সম্পর্কে ধারণা নেই অধিকাংশ মালিক কিংবা শ্রমিকের শ্রীমঙ্গল শহরের দোকান প্রতিষ্ঠানসমূহের বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা সম্পর্কে মালিক ও শ্রমিকদের ধারণা খুব কম যা আলাপকালে তা প্রতীয়মান নূন্যতম শ্রম আইন সম্পর্কে ধারণা শ্রমিকদের নেই বলে চলে এমন একটি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান উজ্জ্বল বস্ত্রালয়ের কর্মরত কর্মচারী মো.শাজাহান মিয়াকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন নিয়োগ পত্র পরিচয় পত্র শ্রম আইন অনুযায়ী মালিক কতৃক প্রদানে বাধ্য রয়েছে তা উনার জানা নেই
শ্রম আইন সম্পর্কে কেউ কোন দিন তা বলেনি যার কারণে আমার মতো অনেকেই ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত
তবে তিনি বলেন আইন থাকেল অবশ্যই আমি তা দাবী জানাবো।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা দোকান কর্মচারী কল্যাণ ইউনিয়ন ২৮৭৭ এর সভাপতি রনধীর চৌধুরী রঞ্জুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের সেক্টরের দোকান কর্মচারীরা বরাবরের মতোই ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত আমরা আমাদের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি তবে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর রয়েছে, দপ্তরের কর্মকর্তারা চাইলে শ্রীমঙ্গল শহরের দোকান প্রতিষ্ঠানসমূহে শ্রম আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিন্তু কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলে তা ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের ভূমিকা নিস্ক্রিয় তিনি আরও বলেন সাপ্তাহিক ছুটি,বাৎসরিক ছুটি,উৎসব ছুটি,এবং কি মহান মে দিবসের ছুটি চাইলে মালিকরা তা দিতে চায়না গত মে দিবসে মালিকরা ছুটি না দেওয়ায় আমাদের পূর্বঘোষিত মহান মে দিবসটি পালন ছিলো নিরানন্দ
এবং তিনি বলেন শ্রম আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত মে দিবসের আগের দিন মহাপরির্দশক কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ঢাকা মহোদয়কে জানালে উনি যথার্থ ব্যবস্তা গ্রহণ করেন পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকের উপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন তুমরা এতো উপরে কথা বলো কেনো,
জাতীয় শ্রমিকলীগ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মো.জাকারিয়া আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আওয়ামী লীগ সরকার শ্রম বান্ধব সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন সময়ে শ্রম আইন সংশোধন শ্রম বিধিমালা জাতীয় শ্রম নীতির মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়োগ পত্র,পরিচয় পত্র,এবং মহিলা শ্রমিকদের মাতৃ কালীন স্ব বেতনে ছুটি সহ কল্যাণকর এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে দুরারোগ্য আক্রান্ত শ্রমিকদের এককালীন ভাতার ব্যবস্থা সহ শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন ২৮৭৭ এর সাধারণ সম্পাদক আফজল হোসেইন বলেন সাপ্তাহিক ছুটির দিন দোকান প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারী ফোন দিয়ে জানতে চাইলে উপ-মহাপরিদর্শক মো.মাহবুবুল হাসান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল বলেন যেসব প্রতিষ্টান সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা রাখে তাদের প্রতিষ্ঠানের উপর মামলা করেন পরে তিনি শ্রম পরিদর্শকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন পরবর্তীতে শ্রম পরিদর্শক(সাধারণ) সুধাংশু শেখর দাশ বলেন যে সকল দোকান সাপ্তাহিক ছুটির দিন খোলা রাখে তাদের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো পরিশেষে তিনি বলেন অফিসে এসে উপ-মহাপরির্দশক স্যারের সাথে কথা বলেন।
লক্ষনীয় শ্রীমঙ্গল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সেচ্ছাচারিতা এর ফলে সাধারণ দোকান কর্মচারী শ্রমিকরা হচ্ছে অধিকার বঞ্চিত।