
মো. মিজানুর রহমান (পলাশ), ফেনী প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থবির থাকার পর অবশেষে ফেনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
শহরের ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী পৌরসভার প্রশাসক রোমেন শর্মা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী ফৌজুল আজিমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) অধীনে নেওয়া এ পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট থেকে মহিপাল পর্যন্ত ড্রেন পুনর্নির্মাণ, ফুটপাত নির্মাণ এবং ডাক্তারপাড়া, শিল্পকলা একাডেমি সড়ক, জয়নাল আবেদিন সড়ক ও পাঠানবাড়ি সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কার্যাদেশ দেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতায় পাঁচ মাসেও কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, কাজ শুরু করতে গেলেই বারবার বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পড়তে হয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমি সড়কে কাজ শুরু হলে অনুমতির জটিলতার অজুহাতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই রাতে প্রকল্পের মালামাল রাখা গুদামে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরবর্তীতে ৩ মার্চ ডাক্তারপাড়া এবং ৫ এপ্রিল শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে কাজ শুরুর সময় আবারও হামলা চালিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকেই একটি পক্ষ তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং পরে কাজের অংশীদারিত্ব চায়। স্থানীয় কিছু ঠিকাদারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও পরিস্থিতি জটিল করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে এসব ঘটনায় বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (আরইউটিডিপি)’–এর অধীনে ফেনীতে সম্ভাব্য বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়ে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়।
ফেনী পৌর প্রশাসক রোমেন শর্মা বলেন, এই প্রকল্পটি বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইলট উদ্যোগ। এর সফল বাস্তবায়নের ওপর আগামী ছয় বছরে ফেনী অঞ্চলে ৬০০ কোটি থেকে এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা নির্ভর করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় কাজটি দ্রুত এবং মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হবে।