
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি’ সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের অভাব রয়েছে,এমন অভিযোগে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি সংগঠনকে সম্পৃক্ত না রেখেই ২২ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। এতে করে মূলধারার সাংবাদিকদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কমিটি গঠনের পেছনে উপজেলা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাজদা বেগমের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এর পরিবর্তে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিতর্কিত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত এই ২২ সদস্যের কমিটিতে ১৬ নম্বর সদস্য হিসেবে উত্তম কুমার সেনগুপ্ত লক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মেহেদী হাসান তাকে ‘ক্রীড়া অনুরাগী ব্যক্তি’ হিসেবে মনোনীত করেছেন।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের দাবি, তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে একটি সরকারি প্ল্যাটফর্মে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এস এম মেহেদী হাসান বলেন, বিএনপির লিডিং পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত অফিস সহকারী মাজদা বেগমের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বদলির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। তাদের মতে, তার উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ কার্যক্রম সম্ভব নয়।
সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত এই কমিটি বাতিল এবং সকল পক্ষের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, কমিটি গঠন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকে বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্ত ও পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।