
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং সংবাদ প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স-মিল মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক উলিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। যার নম্বর- ১৩৯২ এবং তারিখ ৩১ জুলাই, ২০২৬।
থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকার উলিপুর প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক যুগের খবর-এর ষ্টাফ রির্পোটার মো. নুরবক্ত আলী গত ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের চৌমহনী বাজার জামে মসজিদ ও মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতে পরিচালিত একটি স-মিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে গভীর রাতে করাতকল পরিচালনার বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবেই তিনি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছিলেন।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওইদিন রাত প্রায় ৮টার দিকে অভিযুক্ত মো. হাবিবুর রহমান চৌমহনী বাজারে সাংবাদিক নুরবক্ত আলীর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে সেখানেই শেষ হয়নি বলে অভিযোগ। জিডিতে দাবি করা হয়েছে, স-মিল সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিককে মারধরসহ খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে আইনি সুরক্ষার স্বার্থে সাংবাদিক নুরবক্ত আলী উলিপুর থানায় লিখিত আবেদন করেন। পরে পুলিশ বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স-মিলের মালিক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রাতে একটি ছোট কাঠের গুঁড়ি কাটার সময় সাংবাদিক ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমি তার দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের মধ্যে শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহাদত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা হুমকির অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।