
আঃ মান্নান (স্টাফ রিপোর্টার) রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের গুপিয়া খাল থেকে সৃষ্ট জাবুসা বিলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষীদের মাঝে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল হওয়ায় দ্রুত বিলের পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমি আমন ধান চাষের উপযোগী হয়ে উঠছে, অন্যদিকে মৎস্যঘেরগুলোর অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনেও তৈরি হয়েছে স্বাভাবিক পরিবেশ। জাবুসা বিলে রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও অসংখ্য মৎস্যঘের। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে এখানকার কৃষকরা সময়মতো জমিতে ধান চাষ করতে পারছিলেন না। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। একই সঙ্গে মৎস্যঘেরগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় মৎস্যচাষীরাও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতেন। ঘেরে অতিরিক্ত পানি জমে চাষ ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতো। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জনগণের স্বার্থে রূপসার সব খাল-বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখা হবে। নির্বাচনের পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল করার ওপর গুরুত্ব দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জাবুসা বিলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান পথ গুপিয়া খালের সুইচ গেট খুলে দিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণের নানামুখি উদ্যোগ নেওয়া হয়। নারায়নখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই খালের মাধ্যমে বিলের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নদীতে নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বিলের পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ সচল হওয়ায় বিলের পানি দ্রুত কমে কৃষিজমিতে আমন ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে এবং বিলের কৃষিজমি ও মৎস্যঘের গুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসতে থাকে। এ উদ্যোগের ফলে শুধু জাবুসা বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত কৃষক ও মৎস্যচাষীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও কমে এসেছে বলে জানা যায়। আগে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় অনেক কৃষক সময়মতো আমন ধান আবাদ করতে পারতেন না। এখন পানি নিষ্কাশনের পথ সচল হওয়ায় তারা সময়মতো জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদে ফিরতে পারছেন। একই সঙ্গে মৎস্যঘেরের অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মাছ চাষেও স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় এখন তারা সময়মতো আমন ধানের চাষ করতে পারছেন। এতে শুধু ফসল উৎপাদনের অনিশ্চয়তাই কমেনি বরং কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও জমি অনাবাদি থাকার ক্ষতিও কমবে। সময়মতো ধান রোপণ করা সম্ভব হলে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের ঘরে খাদ্যশস্যের মজুদও বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। অন্যদিকে মৎস্যঘেরের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মৎস্যচাষীরাও স্বাভাবিকভাবে ঘের পরিচালনা করতে পারছেন। পানি নিয়ন্ত্রণে থাকায় ঘেরে মাছ চাষের পরিবেশ উন্নত হচ্ছে এবং অতিরিক্ত পানির কারণে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমছে। ফলে কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতেও উৎপাদন ও আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে গত ২৯-শে জুলাই খুলনার একটি স্থানীয় পত্রিকায় জাবুসা বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি এমপি আজিজুল বারী হেলালের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে যাচাইয়ের জন্য জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে তাৎক্ষণিকভাবে জাবুসা এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে নেতাকর্মীরা জাবুসা এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে বিলের বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা স্থানীয় কৃষক, মৎস্যচাষী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র দেখেন। পরিদর্শনকালে তারা দেখতে পান, গুপিয়া খালের সুইচ গেট খুলে দেওয়া এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরনের ফলে বিলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষীরা এর সুফল ভোগ করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের ফলে বিলে আমন ধান চাষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে যে জমিগুলোতে চাষাবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে চাষের আওতায় আসছে। একই সঙ্গে মৎস্যঘেরগুলোতেও পানির স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষি ও মৎস্য দুই খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের মধ্যেই স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এদিকে গুপিয়া খালের সুইচ গেটটিতে কিছুটা কারিগরি সমস্যা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে পরিদর্শনে থাকা নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে এমপি আজিজুল বারী হেলালের নির্দেশনায় সুইচ গেটটি খুলে দেওয়া হয়েছে।গেটটির যেসব কারিগরি সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সুইচ গেটটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা গেলে ভবিষ্যতে জাবুসা বিলের পানি নিষ্কাশন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন বিলের পানি নিষ্কাজাবুসা বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সচল রাখতে গুপিয়া খালের সুইচ গেটটির প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি রূপসার অন্যান্য খাল-বিল ও জলাশয়ের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
এলাকা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দীন মিন্টু, সাবেক সদস্য সচিব দিদারুল ইসলাম,টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচ