
বুলবুল হাসান, পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার পিপুলিয়া কারিগর পাড়া মহল্লার মেসার্স সরকার উইভিং ফ্যাক্টরীর মালিক তাঁত ব্যবসায়ী আল আমিনকে একই মহল্লার আব্দুল মুন্নাফ ও ব্রনাই প্রবাসী দুলাল মোল্লা। জামাই শশুর মিলে কোর্টে মামলা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পিপুলিয়া মহল্লায় পুর্বপুরুষ থেকেই তারা তাঁত ব্যবসার সাথে জরিত।সেইজন্যই পিপুলিয়ার চেয়ে এই মহল্লাটা কারিগর পাড়া বা তাঁতিপাড়া নামে বেশি পরিচিত। সাঁথিয়া পৌরসভার সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার পিপুলিয়ার পাশে হওয়ায় এই বাজারের নামও তাঁতি বাজার নাম দিয়েছে সাঁথিয়াবাসী। আর এরই ধারাবাহিকতায় পৈত্রিক ব্যবসা হিসেবে পিপুলিয়া গ্রামের আক্কাজ আলীর ছেলে আল আমিন মেসার্স সরকার উইভিং ফ্যাক্টরীর নামে পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র যার সনাক্তকরণ নং ৫৫৬৫০। সাঁথিয়া পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নং ৪১৭। সাঁথিয়া পৌরসভার অনাপত্তিপত্র ২০২৪/২১৫ নিয়ে সুনামের সহিত ব্যবসা করে আসছে। পিপুলিয়া গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই তাঁত ব্যবসার সাথে জড়িত। একই মহল্লার তাঁত ব্যবসায়ী আব্দুল মুন্নাফের জামাই ব্রুনাই প্রবাসী দুলাল মোল্লা পিপুলিয়া গ্রামে জায়গা কিনে সরকারি রাস্তার জায়গা পেঁচিয়ে তিনতলা ভবন করে। তাঁতি পাড়ায় বাড়ি করার শুরু থেকেই শব্দদূষণের নাম করে দুলাল মোল্লা এবং তার শশুর মিলে আলামিনকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিধামকি দিয়ে আসছে তাঁত বন্ধ করার জন্য। হুমকিধামকিতে কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় মামলা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়ে আল আমিনকে হয়রানি করেই যাচ্ছে তারা। মামলার বাদী আব্দুল মুন্নাফের বাড়িতেও তার ২ ভাই সালাম মোল্লা ও সাইদ মোল্লার পাওয়ার লুম মেশিন আছে। কিন্তু তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের নাই কোন ছাড়পত্র। পৌরসভারো নাই কোন অনাপত্তিপত্র। তারপরও তার বিরুদ্ধে নাই কারো কোন অভিযোগ। অভিযোগ না থাকারই কথা কারণ পুরো এলাকাতেই শুধু তাঁত আর তাঁত।আর তাঁতের শব্দেই এদের বেড়ে ওঠা।
পিপুলিয়া গ্রামের কয়েকজন তাঁত ব্যবসায়ী কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তাঁত বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলানোই ভালো। তাঁত বন্ধ হলে আমরা কি করে খাবো? আমাদের জন্মই শব্দে, খাওয়াও শব্দে, মৃত্যুও শব্দেই। শব্দ ছাড়া আমাদের ঘুমই ধরেনা। কেউ বাইরে থেকে এসে শব্দদূষণ বললে আমাদের কান্না এসে যায়।যারা শব্দ মেনে নিতে পারবেনা তারা কেন তাঁতি পাড়ায় এসে বাড়ি করে আমাদের হয়রানি করবে।পিপুলিয়া গ্রামে তাঁতিদের পুর্বপুরুষের বসবাস। পাবনা পরিবেশ অধিদপ্তরের নজরুল ইসলাম টাকা পেলেই তাদের পক্ষে কথা বলে।অভিযোগ কারীর বাড়ির চার পাশে তাঁতের ফ্যাক্টরী থাকলেও তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্রও নাই।তারপরো এই নজরুল ইসলাম তাদের কাছে থেকে মাসোয়ারা নেওয়ায় তাদেরকে কোন কিছুই বলেননা।
ভুক্তভোগী আল আমিন বলেন,
শব্দদূষণের নাম করে দুলাল মোল্লা এবং তার শশুর মিলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিধামকি দিয়ে আসছে তাঁত বন্ধ করার জন্য। হুমকিধামকিতে কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা মামলা এবং অভিযোগ দিয়ে হয়রানি এবং আমার মানহানি করেই যাচ্ছে তারা। আমার পুর্বপুরুষের ব্যবসা হচ্ছে তাঁত ব্যবসা।এখানে যুগযুগ ধরে তাঁত চালিয়ে আসছি। এযাবৎ কেউ কোন অভিযোগ করেনি। সারা পাড়ায় এবং তার জায়গার চারপাশে তাঁত দেখেও সে আমার আত্মীয়দের কাছে থেকে জায়গা কিনে বিল্ডিং করে, বিল্ডিংএর চার পাশে তাঁত থাকলেও কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ করেই যাচ্ছে।
অভিযোগ ও মামলার বাদী মোঃ আব্দুল মোন্নাফ এর বাড়িতে গিয়ে এবং মুঠো ফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পাবনা পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন,আমি দেখে আসছি, যেগুলোর কাগজপত্র নাই সেই গুলোর সতর্ক নোটিশ দিয়েছি। আমাদের যে অনুমতিপত্র মেসার্স সরকার উইভিং ফ্যাক্টরীকে দেওয়া হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ১২ টা তাঁত চালানো যাবে,তারা সেখানে ১২ টা তাঁতই চালাচ্ছে। আবার নতুন করে একটা ঘর তুলেছে সেটাতেও ৪ টা তাঁত বসিয়েছে, নতুন ঘরে আরো ৬ টা তাঁত বসানো যাবে। নতুন ঘরের জন্য আবার নতুন করে আমাদের কাছে থেকে অনুমতি নিতে হবে। অভিযোগ কারীসহ পিপুলিয়া গ্রামে অনেকের বাড়িতেই তাঁত আছে। তারা কিভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই তাঁত চালাচ্ছে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম জানান, আপনারাও জানেন আমরাও জানি, ওরকম অনেকেই অনুমতিপত্র ছাড়াই তাঁত চালাচ্ছে। আমাদের কাছে যেগুলোর অভিযোগ আসে সেইগুলো আমারা খতিয়ে দেখবো।