1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
April 19, 2026, 9:11 am
Title :
ডিজে পার্টিতে অভিযান: গ্রেফতার ৬, মাদক জব্দ মৌলভীবাজারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অভিযানে ডাকাত সর্দারসহ ৩ জন গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যে গুজব কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামূলক কার্যক্রম-ই প্রাধান্য পাবে,রূপসায় আজিজুল বারী হেলাল এমপি।  বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও জননেতা মরহুম মফিজুল ইসলাম মোহন মিয়া—রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায়…  আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন,সাপটিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুস সোহরাব,  ‎ জিয়া শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ঘোষণা শিবগঞ্জে মোকামতলা বাঘমারা দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী অনুষ্ঠান (মধুপুর-এলেঙ্গা)হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় ৮০০ পিস,ফেনসিডিল উদ্ধার ও গাড়ী আটক: ‎ধনবাড়িতে ১৮৭১ সাল থেকে ঐতিহ্যের ধারায় বৈশাখী মেলা 

লোহাগড়ায় জেলেদের গরু প্রকল্পে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম: তালিকায় ভুয়া নাম-নম্বর, অর্থের বিনিময়ে রুগ্ন গরু বিতরণের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, April 15, 2026,
  • 275 Time View

 

 

 

স্টাফ রিপোর্টার :

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের “দেশীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দরিদ্র জেলেদের মাঝে গরু বিতরণ কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের তালিকায় গড়মিল, ভিন্ন জেলার মোবাইল নম্বর ব্যবহার, এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজান্তেই তাদের নাম যুক্ত করার মতো গুরুতর অসঙ্গতি উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৬০ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জেলের মাঝে ৬০টি বকনা গরু ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও শুরুতেই সাংবাদিকদের কাছে কোনো তালিকা সরবরাহ করা হয়নি। পরে ৬০ জনের একটি তালিকা দেওয়া হয়, যেখানে নাম, মোবাইল নম্বর, স্বাক্ষর ও টিপসই সংযুক্ত ছিল। তবে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, তালিকায় ব্যবহৃত অনেক মোবাইল নম্বরই লোহাগড়ার বাইরের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের।

তালিকার ২৭ নম্বর উপকারভোগী কাশিপুর ইউনিয়নের বাহিরপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি ৯ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি বকনা গরু পেয়েছেন, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। একইভাবে আরও কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং যে গরুগুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো অত্যন্ত দুর্বল ও রুগ্ন—অনেক ক্ষেত্রে ছাগলের চেয়েও ছোট।

তালিকার ৯ নম্বর উপকারভোগীর নামের পাশে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করলে ইসরাফিল সরদার নামে এক ব্যক্তি জানান, নম্বরটি তার হলেও তিনি কোনো গরু পাননি এবং তালিকায় উল্লেখিত ব্যক্তিকে চেনেন না। একইভাবে তালিকার ৩৭ নম্বর উপকারভোগীর নম্বরে ফোন করলে সেটি রিসিভ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার এক নারী, যিনি জানান—লোহাগড়ায় গরু বিতরণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

তালিকার ১০ নম্বর উপকারভোগী হিসেবে ধলইতলা গ্রামের সূজন শেখের নামের পাশে থাকা নম্বরটি ব্যবহার করছেন মল্লিকপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমি কোনো গরু পাইনি এবং এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”

অনুসন্ধানে নতুন করে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তালিকার ১১ নম্বরে উপজেলার পাচুঁড়িয়া গ্রামের গোলাম হায়দারের ছেলে খোকন শরীফের নাম থাকলেও, তালিকায় দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করলে মাদারীপুর জেলার মহাসিন নামে এক ব্যবসায়ী ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, “আমি একজন ব্যবসায়ী, এই গরু বিতরণের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার নম্বর এখানে কীভাবে ব্যবহার হলো, সেটিও বুঝতে পারছি না।”

একইভাবে তালিকার ১২ নম্বরে থাকা পাচুঁড়িয়া গ্রামের সরোয়ার মোল্লার ছেলে জুয়েল মোল্লার নামের পাশে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোনটি রিসিভ করেন কিশোরগঞ্জের এক ব্যক্তি, যিনি বর্তমানে ঢাকার পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এই প্রকল্প বা গরু বিতরণের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তালিকায় থাকা একাধিক নম্বরই ভিন্ন জেলার মানুষের, যা পুরো তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নিম্নমানের গরু কম দামে কিনে বেশি দামে দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। গরু ক্রয়, পরিবহন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান তদারকি ছিল না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তথ্য জানতে একাধিকবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাসুম খানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কার্যালয় কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও অনাগ্রহী বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পের আওতায় ৬০টি গরু বিতরণ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার জানান, “কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দরিদ্র জেলেদের উন্নয়নের জন্য নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—যাদের জন্য এই প্রকল্প, সেই প্রকৃত জেলেরা কতটা উপকৃত হয়েছেন? নাকি ‘ভূতের তালিকা’ তৈরি করে একটি চক্র সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে? তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে লোহাগড়ার সচেতন মহল।

 

 

 

স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল।

 

তাং- ১৫-০৪-২০২৬.

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট