
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) মিজানুর রহমানকে ঘিরে সম্প্রতি যে অভিযোগপত্রসদৃশ বয়ান বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার অন্তর্নিহিত বাস্তবতা অনুসন্ধান করলে প্রতীয়মান হয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সুসংগঠিত অপপ্রচার প্রচেষ্টা, যার মূল লক্ষ্য একজন সৎ, নির্ভীক ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং বৃহত্তর পরিসরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনআস্থা দুর্বল করা।
অভিযোগের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তথাকথিত বার্তালাপ, কথোপকথন কিংবা অনির্ভরযোগ্য উৎসনির্ভর তথ্যকে ভিত্তি করে একটি একপেশে বয়ান দাঁড় করানো হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্যে নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই, নেই ফরেনসিক বিশ্লেষণ, নেই বিচারিক গ্রহণযোগ্যতার ন্যূনতম মানদণ্ড। বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় তথ্য বিকৃতি, সম্পাদনা কিংবা প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন উপস্থাপন অত্যন্ত সহজ; ফলে যাচাইবিহীন এসব উপাত্তের ওপর দাঁড়িয়ে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সততা প্রশ্নবিদ্ধ করা কেবল অন্যায়ই নয়, বরং তা একটি সুস্পষ্ট অপকৌশল।
চেকপোস্ট বা মোবাইল কোর্টসংক্রান্ত অভিযোগগুলোও একইভাবে বাস্তবতাবিবর্জিত। প্রশাসনিক কাঠামোর সুস্পষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এসব কার্যক্রম কোনো একক কর্মকর্তার ইচ্ছানির্ভর নয়; বরং এটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যক্তিগত অনুরোধে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং স্পষ্টতই কল্পনানির্ভর।
সি.আর. মামলার বিলম্ব প্রসঙ্গেও যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা একমাত্রিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিচারিক প্রক্রিয়া বহুমাত্রিক এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে বিলম্বিত হতে পারে। সেটিকে ‘অর্থের বিনিময়ে বিলম্ব’ হিসেবে চিত্রিত করা নিছক অনুমানভিত্তিক এবং প্রমাণবিহীন অভিযোগ, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
সবচেয়ে গুরুতর যে অভিযোগটি সামনে আনা হয়েছে, গোপন তথ্য ফাঁস তা নিয়েও রয়েছে গুরুতর অসংগতি। কোনো কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) আদান-প্রদানের বিষয়টি কঠোর আইনি কাঠামোর অধীন; একজন অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সচেতনভাবে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও শাস্তিযোগ্য কাজ করবেন এমন ধারণা তার পেশাগত অবস্থান ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এটি একটি সাজানো অভিযোগ, যার মাধ্যমে তাকে আইনি জটিলতায় ফেলার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মিজানুর রহমান একজন কর্মঠ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং দায়িত্বনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। গুলশানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যা অনেক অসাধু ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থী হয়েছে। ফলে তাকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়।” আরেকজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “যাচাইবিহীন তথ্য দিয়ে একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। এটি কেবল ব্যক্তি নয়, পুরো বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করে।”
অনুসন্ধানে আরও প্রতীয়মান হয়, গুলশান এলাকার অবৈধ ব্যবসা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানই মূলত একটি প্রভাবশালী মহলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের সেই অস্বস্তি থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের অভিযোগের বয়ান তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে একদিকে ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করা, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনরত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত; তবে তা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, যাচাইকৃত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমর্থিত। অন্যথায় এটি কেবল অপপ্রচার হিসেবেই বিবেচিত হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত অভিযোগসমূহে সেই গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতি স্পষ্ট।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ওসি (অপারেশন) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ মূলত ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং সুস্পষ্টভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারেরই বহিঃপ্রকাশ।