
আফজল হোসেইন (শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি)
মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি হলো “ঈদুল ফিতর”।দীর্ঘ ১মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানগন ঈদুল ফিতর পালন করে থাকে।
শনিবার ( ১৩এপ্রিল) ঈদের ৩য় দিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানগুলোতে, যা চোখে পরার মতো।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশ চা গবেষনা ইনস্টিটিউট,লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (আংশিক),সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা,মসজিদুল আউলিয়া,রাবার-বাগান,চা-বাগান,বদ্ধ ভূমি ৭১,নীল কন্ঠ চা কেবিন সাত রং চা সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলোতে।বিশেষ করে বদ্ধ ভূমিতে অগণিত দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।
ঈদের চারদিন ও (১বৈশাখ) বাংলা নববর্ষের একদিন ছুটি মিলে পাঁচ দিন ছুটি থাকায়, বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থান গুলোতে ব্যাপক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে, যার ফলে লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে স্থান গুলো।
“পর্যটকদের” আগমনে ভাসমান ব্যবসায়ীরা আনারস,লেবু সহ বিভিন্ন স্থানীয় বাগানের ফল ভ্যান,ঠেলা গাড়ির মধ্যে সাজিয়ে বসেছে সড়কের পাশে। এবং পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় সেইসব ফল ক্রয় করতে দেখা যায়।দর্শনার্থীরা শ্রীমঙ্গলের সুন্দর সুন্দর স্থান গুলো দেখে উচ্ছ্বসিত।
কেউ তাদের পরিবার নিয়ে কেউবা বন্ধু বান্ধব সাথে করে ভিডিও,টিকটক ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত এবং কি দর্শনার্থীরা সারিবদ্ধ চা-বাগান,আনারস বাগান রাবার-বাগান উঁচু পাহাড় দেখে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেছে।
ঈদের ও নববর্ষের টানা পাঁচ দিন ছুটি থাকায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্যে করা যায়।এতে অত্র এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ীরা বেজায় খুশি।
এছাড়াও ঈদের দিনে বিপুল পরিমাণ দর্শনাথীদের আগমনে,”পর্যটন শিল্পের” সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখছেন।আবার রির্সোট,গেস্ট হাউস,রেস্ট হাউস, হোটেল ব্যবসায়ীরা মনে করেন,বিভিন্ন উৎসবে শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থান গুলোতে মূলত শ্রীমঙ্গল ও আশপাশ এলাকার লোকজনের আগমন ঘটে,এতে করে রিসোর্ট,হোটেল ব্যবসায়ীরা তেমন লাভবান হয়না।আবার কেউ বলছেন ঈদের নববর্ষের লাগাতার পাঁচ দিন সরকারি ছুটিতে,সামনের দিনগুলোতে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি হতে পারে।এর ফলে “পর্যটন শিল্পের” ব্যবসায়ীরা কিছু আশার আলো দেখছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার মহাজিরাবাদ এলাকার নভেম ইকো রিসোর্ট, এর সেলস এন্ড রিজার্ভেশন সুপারভাইজার মো:সোহাগ বলেন,ঈদের দিন থেকে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং অলরেডি হয়েছে,সরকারি ঈদের চার দিন ও নববর্ষের একদিন মিলে পাঁচ দিন ছুটির মধ্যে সম্পূর্ণ রুম বুকিং হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।এদিকে শ্রীমঙ্গল রাধানগর এলাকার বালি শিরা রিসোর্ট এর রিজার্ভেশন সিনিয়র কর্মকর্তা সুলতানা খাতুন বলেন, গতবারের তুলনায় ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের লম্বা ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে।যার ফলে রুম বুকিং ৯০-১০০শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।