
নির্মল ইন্দু সরকার
আয়কর আইনজীবী
সদস্য: ঢাকা ট্যাক্সেস বার
আয়কর আইন ২০২৩-এর ৩০ ধারায় একজন স্বাভাবিক ব্যক্তির আয়ের খাত ৭ টি বলা হয়েছে। একই আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে ৭টি খাতের আয়ের যোগফল হবে ব্যক্তির বার্ষিক মোট আয়। বার্ষিক মোট আয় যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তাহলে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট হারে আয়কর দিতে হবে। আর বার্ষিক মোট আয় যদি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে তাহলে আপনাকে কোন আয়কর দিতে হবে না। শুধু রিটার্ন দাখিল করলেই হবে।
আইন অনুযায়ী এর বাইরে আয়করের আর কোন বিধান নাই।
সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারিগণ মোটরসাইকেলের উপর ধার্যকৃত প্রস্তাবিত ট্যাক্স বাতিল করার জন্য আন্দোলন শুরু করেছে। প্রকৃত কথা হলো মোটরসাইকেলের উপর ট্যাক্স নামে বাংলাদেশে কোন ট্যাক্স নাই। অতীতেও এ নামে কোন ট্যাক্স ছিল না। ভবিষ্যতেও থাকবে বলে মনে হয় না।
মোটরসাইকেলের উপর কোন ট্যাক্স হয় না। ট্যাক্স হয় আপনার বার্ষিক মোট আয়ের উপর। আপনার মোট আয় যদি নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে তাহলে আপনি বাইকের মালিক না হলেও আপনাকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। আর আপনার আয় যদি নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম না করে তাহলে আপনি ৫টি বাইকের মালিক হলেও কোন ট্যাক্স দিতে হবে না। তাই মোটর সাইকেলের উপর ট্যাক্স এ বিষয়টি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।
সরকার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জনগণের নিকট থেকে ট্যাক্স আদায় করে থাকে। এরমধ্যে অন্যতম কৌশল হলো অগ্রিম কর এবং উৎসে কর। আয়কর থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসে অগ্রিম কর এবং উৎসে কর থেকে।
অগ্রিম কর হলো আপনি করবর্ষে যে পরিমাণ কর দিবেন তা বছর শেষ একসাথে না নিয়ে বছরের শুরুতে বা যে কোন সময় আপনার কাছ থেকে অগ্রিম কেটে রেখে দেওয়া । আর উৎসে কর হলো আপনার আয় যখন হবে তখনই আয় থেকে কিছু টাকা কেটে রেখে দেওয়া। সরকার আপনার নিকট থেকে অগ্রিম কর বা উৎসে কর যেভাবেই আগেভাগে টাকা নিয়ে থাকুক না কেন আপনার মোট যে প্রদেয় কর হয় তা থেকে অগ্রিম কর এবং উৎসে কর বাদ দেওয়া হয়।
সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, কর ফাঁকি বন্ধ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জনগণকে কর প্রদানে অভ্যস্ত করাসহ অন্যান্য কারণে অগ্রিম কর এবং উৎসেকর নিয়ে তাকে সরকার। ফলে জনগণকে একসাথে অনেক টাকা কর পরিশোধ করতে হয় না।করভীতি করদাতার মন থেকে উঠে যায়।
একটি দেশের জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর ভিত্তি করেন অগ্রিম কর এবং উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশে পূর্বেও অগ্রিম কর ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
অবস্থা বিবেচনা করে প্রতিবছর সরকার অগ্রিম করের আওতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অগ্রিম করের আওতায় সরকার নিয়ে এসেছে। বিগত বছরগুলোতে যারা প্রাইভেটকার ব্যবহার করত তাদেরকে অগ্রিম করার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এ বছর শুধু অগ্রিম করের আওতা বৃদ্ধি করে যারা ১১০ সিসির বেশি মোটরসাইকেল ব্যবহার করবে তাদেরকে অগ্রিম করের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। মোটরসাইকেলের ওপর কোন কর ধরা হয়নি। মোটরসাইকেলের মালিককে অগ্রিম করের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এটা খারাপ কিছু না।
বাংলাদেশের মোট জনগণের ১% এরও কম মানুষ মোটরসাইকেলের মালিক। তাই আপনার যদি একটি মোটরসাইকেল থাকে তাহলে আপনি ১% জনগণের মধ্যে আছেন। আপনার সামাজিক অবস্থা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী। সরকার আপনার উপর অগ্রিম কর চাইতেই পারে।
যারা মোটরসাইকেলর মালিক তারা এটি মনে করার কোন কারণ নাই যে, আপনার মোটরসাইকেলের উপর ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে। আপনাকে মনে করতে হবে, আপনি মোটরসাইকেল মালিক বলে সরকার আপনাকে রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী ব্যক্তি বলে বিবেচনা করেছে ।
বার্ষিক যে পরিমাণ ট্যাক্স আপনার দেয়ার কথা আপনি তাই দিবেন। মোটরসাইকেলের মালিক হওয়ার কারণে আপনাকে অতিরিক্ত ট্যাক্স দিতে হবে না। অতএব নিয়ম মেনে আয়কর দিন, সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করুন।