
মো. হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুরপ্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে জয়দেবপুর বাজার ও রাজবাড়ী রোড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা করে মোট দুই হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
অভিযানে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, “রাজবাড়ী রোডের ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে কোনো দোকানপাট বসানো কিংবা গাড়ি পার্কিং করতে দেওয়া হবে না।” নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত এবং গাজীপুর শহরকে যানজটমুক্ত ও সুশৃঙ্খল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উচ্ছেদ করা এলাকা নিয়মিত তদারকি করে দখলমুক্ত রাখার জন্য সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন প্রশাসক। পুনরায় ফুটপাত দখল করা হলে পর্যায়ক্রমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, উচ্ছেদ করা জায়গা যাতে আবার দখল না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও হকারদেরও জনস্বার্থ বিবেচনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ ফিরোজ আল মামুন বলেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আজকের অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দুই ব্যবসায়ীকে মোট দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তবে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই হকাররা আবার ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেন। এর আগেও একই এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়।
স্থানীয়দের মতে, এভাবে উচ্ছেদ করে আবার দখলের সুযোগ তৈরি হলে অভিযান কোনো স্থায়ী সুফল বয়ে আনবে না। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, দখলকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনগত ব্যবস্থা এবং হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নগরবাসী বলছেন, জয়দেবপুর বাজার ও রাজবাড়ী রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত স্থায়ীভাবে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা গেলে একদিকে মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সড়কে যানবাহনের চাপ ও যানজটও কমবে।
অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজ আল মামুন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, ৪ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিএনপি নেতা মোস্তফা নীনা, বাপ্পী-দেসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।